Friday, May 20, 2016

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের "পাশ বালিশ"।

"পাশ বালিশ" সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের একটি রম্য রচনা সংকলন। নিচের রম্য রচনাগুলো এই সংকলনে স্থান পেয়েছে-

. হালুইকর ও যোগাড়ে
. বরবাদ
. মনুষয হও
. ইয়ে
. ফলগু
. নির্জনতায় আমরা ভয় পাই
. কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরোলেই পাজি
. উতল দখিণ বাতাসে
. যে ট্রেন থামে না যার কোন ইষটিশন নেই
. তোমার ম্যাও তুমি সামলাও
. হাসতে মানা নেই
. কী হল দাদা
. প্রশ্নউত্তরে দুর্গৎসব
. ফাবেডিরু
. পাশ বালিশ



বইটাকে দুর্দান্ত বলবো না, তবে ভালো। কয়েকটা রচনাকে অবশ্য দুর্দান্ত না বললে কম হয়ে যায়। দারুণ হিউমারে পরিপূর্ণ। আবার কয়েকটা বেশ সাধারন। দুটো জায়গা আমি কোট করতে চাই-

"স্ত্রী হল চীনেমাটির বাহারি ফুলদানি। সেই ফুলদানিতে জীবনের যতো দুঃখ সুখের ফুল সাবধানে সাজিয়ে রাখতে হয়। অফিসের বড়কর্তার সাথে ইয়ার্কি চলে। ইয়ার্কি চলে পুলিশ সার্জেন্টের সাথে। এমনকি চিড়িয়াখানায় বাঘের খাচার সামনে দাড়িয়ে চুমখুরি মারা যায়; একমাত্র ইয়ার্কি চলে না স্ত্রীর সাথে। সবসময় মন জুগিয়ে চলতে হয়। খুশ মেজাজে রাখতে হয়। দেয়াশলাই কাঠি আর খোলের সম্পর্ক বেশি ঘষলেই ফ্যাস" (হে নারী সমাজ, আমি অট্টহাসি দিয়েছি বলিয়া আমায় ক্ষমা করো)

"সব জীবেরই একটা সমাজ আছে। বাঘের আছে। সিংহের আছে। পাখির আছে। কুকুরের আছে। সাধারন কিছু নিয়ম তারা মেনে চলে। ঝাকের পাখি, ঝাকের মাছ কদাচিৎ নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি করে। ক্যানিবলিজম নেই বললেই চলে। বাঘে বাঘ মারে না। গোয়ালে দুটো গরু পাশাপাশি বেঁধে রাখলে রাতে একটা আরেকটা কে খেয়ে ফেলে না বা গুঁতিয়ে মেরে ফেলে না। গোয়ালের দরজা খুলে মুংলী গাই প্রতিবেশির গোয়ালে ঢুকে ঝুমরী গাইকে বলেনা, চল মধুকে বাশ দিয়ে আসি।

মানুষ খুব বুদ্ধিমান প্রাণী। ভাবতে জানে, ভাবাতে জানে। সাড়া পৃথিবী তার পায়ের তলায়। আকাশের দুরপ্রান্ত তার দখলে। সুচারু চেহারা। বড় বড় দাঁত নেই। নখওয়ালা সাঙ্ঘাতিক থাবা নেই। মানুষের গ্রন্থাগারে জ্ঞান ঠাঁসা বই। মগজে জ্ঞান বিজ্ঞানের বীজ। মুখে বড় বড় কথা। প্রেম ভালোবাসা, আত্মউৎসর্গ, হীতসাধন। তবু মানুষের মতো অনিশ্চিত প্রাণী জীবজগতে আর দুটি নেই"।


বইঃ পাশ বালিশ
লেখকঃ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
জনরাঃ রম্য রচনা
প্রকাশনীঃ পুস্প
পৃষ্ঠাঃ ৯৬

 

No comments:

Post a Comment