যুগ পাল্টায়। পাল্টায় রীতিনীতি, চিন্তা চেতনা। কিন্তু সমাজের একটা শ্রেণী সংস্কার আঁকড়ে ধরে থাকে জাপটে, কষে। আর তাই একটা বলয়ে তালগোল হারিয়ে ফেলে প্রতিটা প্রজন্ম।

বহ্নি বলয় লেখিকার আত্মজৈবনিক উপন্যাস বলেই মনে হয়েছে। নাও হতে পারে। আমার মনে হয়েছে এটা শুধুই উপন্যাস না। আবার উল্লেখ ও নেই যে এটা আত্মজৈবনিক উপন্যাস। লেখিকা একটি নারী উন্নয়ন বিষয়ক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচীতে হাওয়াই দ্বীপে গিয়ে হঠাৎ খুজে পান তার কৈশোরের সাথী বালি কে। বালি ছিল একজন নিম্নবর্গের কোল কিশোরী। লেখিকার চাচার বাংলোতে কাজ করতো বালির মা। আর লেখিকা বাংলোতে বেড়াতে এলে বালি ছিল তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী।
কয়েক যুগ বালিকে দারুন বদলে দিয়েছে। আদিবাসী সেই উচ্ছল কিশোরী এখন একদম মার্কিন নারী, মুখে মার্কিন অ্যাকসেন্ট। কিন্তু তার জীবন? সে যেন হাওয়াই দ্বীপের বালুয়ারিতে আছড়ে পড়া উথাল পাথাল ঢেউ। কখনো ভাসিয়ে এনেছে, কখনো টেনে নিয়ে গেছে সব। জানতে চান তার সম্পরকে? তাহলে পড়ে ফেলুন "বহ্নি বলয়"।
ক্ষীণতনু উপন্যাসটা আঁচর কেটে রাখবে নিশ্চিত। অল্পকটা পাতায় লেখিকা জীবনের কথা, জীবন সংগ্রামের কথা, সংস্কারের কথা, সংস্কারের বলয়ে পৃষ্ঠ মানুষের কথা দারুন ভাবে তুলে ধরেছেন। কেউ হয়ত সংস্কার ভাঙ্গার সাহস করে, তবে বেশিরভাগই জীবনের পালে মুক্ত হাওয়া লাগাতে পারেনা।এটি সংস্কার ভাঙ্গা ও না ভাঙ্গতে পাড়া মানুষের গল্প।
বইঃ বহ্নি বলয়
লেখকঃ নীলিমা ইব্রাহিম
প্রকাশনীঃ মুক্তধারা
পৃষ্ঠাঃ ৬৯
প্রথম প্রকাশঃ ১৯৮৫
No comments:
Post a Comment