Saturday, June 14, 2014

বেশি করে সিম কিনুন, বন্ধ সিমের অফার লুটুন!



মোবাইল ফোন ব্যাবহার করি সেই ২০০৩ সাল থেকে। আর গ্রামীণফোন এর বর্তমান যে সিম ব্যাবহার করি সেটা ২০০৫ সালে কেনা। কখনো বন্ধ করি নি। হিসেব করলে দেখা যায় আমি ৯ বছর, ২ মাস, ১ দিন অর্থাৎ ৩৩৪৯ দিন যাবৎ এই সিম টি ব্যাবহার করছি। নিজেকে তাহলে গ্রামীণ ফোন এর কিছুটা লয়াল কাস্টমার বলতেই পারি কি বলেন?

কিন্তু খারাপ লাগে যখন দৈনিক পত্রিকার পাতায় পাতায় দেখি গ্রামীণফোন সহ অন্যান্য মোবাইল অপারেটর এর বন্ধ সিম চালু করলে অমুক তমুক অফার। এই তো কয়েকদিন আগেই দেখলাম গ্রামীণ ফোন এর বন্ধ সিম চালু করলে মাত্র ১০ টাকায় ১ জিবি ইন্টারনেট প্যাকেজ যেখানে আমরা যারা এতো বছর ধরে সিম চালু রেখেছি, তারা ওই একি প্যাকেজ ব্যাবহার করবো প্রায় সাড়ে তিনশো টাকায়। তো লয়াল থাকার মূল্য কতো দেখলেন তো? আমার এক বন্ধু আছে যে সব অপারেটর এর ২-৩ টা করে সিম কিনে রেখেছে। বন্ধ করে রাখে। যখন যেটা অফার দেয় সেটা চালু করে। এইতো সেদিন আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ১০ টাকার ১ জিবি ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যাবহার করছিল আর আমাকে উপহাস করছিল। ও আমাকে অনেক বার বলেছিল কয়েকটা সিম কিনে বন্ধ করে রাখতে। কিন্তু কেন যেন হয়ে ওঠেনি। কয়েকদিন আগে এইটা নিয়ে ফেসবুক এ একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। ওখানে দেখলাম আমার মতো পাপি অনেকেই আছে। আবার এক বন্ধু কমেন্ট করলো ফোন অপারেটরদের এই বদান্যতায় নাকি তার লাভ লাইফ বেশ ভালোই কেটেছে। তার ও বেশ কয়েকটা সিম ছিল। একটা রেখে একটা তে অফার পেত। ধুমায়া প্রেম করতো। বেচারা বিয়ে করে ফেলেছে।

এখন ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে ফোন অপারেটর গুলার কাছে ডিভোর্সি বউ বেশি পছন্দের অথচ ঘরের বউ থাকে অবহেলায়। তাই আপনি ও যদি ঘন ঘন মোবাইল অপারেটর গুলকে ডিভোর্স দিতে পারেন তাহলে দেখবেন আপনি ও খাতির যত্ন বেশ ভালোই পাবেন। তাই ভাবছি যেমন কুকুর তেমন মুগুর হাতে নিতে হবে। উপায় নাইরে গোলাম হোসেন! আপনি বাদ যাবেনকেন? বেশি করে সিম কিনুন, বন্ধ সিমের অফার লুটুন!

Friday, June 13, 2014

শহুরে ট্রাফিক জ্যাম- মুখ গুজে হাসে বিধাতা!

"উফ জ্যাম, আহ জ্যাম। সারাটা দিনতো রাস্তায় কেটে গেলো।" - পাশের সিটে বসা ভাবি।

হ্যাঁ, আপনার আমার অনুভুতি ও ঠিক এরকমই প্রতিনিয়ত। দিন শেষে আপনি আমি বাড়ি ফিরছি রাজ্যের বিরক্তির ধুলো গায়ে মেখে। এ ধুলো শালার এমনি ধুলো কুসুম গরম পানি (অবশ্যই শীতকালে) অথবা বরফ ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলেও যেতে চায় না। সে আপনি যতো দামি বিদেশি ব্রান্ডের সাবান দিয়ে ঘষে ঘষেই গোসল করুন না কেন? কিন্তু আপনি কখনো ভেবে দেখেছেন কি এই ট্রাফিক জ্যাম আছে বলেই কিছু মানুষ দিনশেষে বাড়ি ফেরে একরাশ স্বস্তি নিয়ে। কি অবাক হচ্ছেন নাকি?

আচ্ছা একটু ভাবুন তো যে ছোট ছোট বাচ্চাগুলো গাল ভরতি হাসি আর মুঠো ভরতি ফুল নিয়ে জ্যাম এর মধ্যে ছুটে ছুটে ফুল বিক্রি করে, জ্যাম না হলে তার কি হতো? পঙ্গু বাবা অথবা অসহায় বিধবা মা বাচ্চার গোমড়া মুখে বাড়ি ফেরা দেখে হয়তো মুখ লুকিয়ে দেশের পানির অভাব কিছুটা কমাতো।

অথবা ভাবুন সেই সব আবাল- বৃদ্ধ- বনিতার কথা যারা বোতল ভরতি ঠাণ্ডা পানি নিয়ে একবার আমার কাছে একবার আপনার কাছে ছুটে ছুটে আসে। আপনি বা আমি যখন বোতলের ছিপি খুলে ঠাণ্ডা পানি গলায় ঢেলে তৃপ্তির হাসিতে আবহাওয়া অন্যরকম করে ফেলি তখন তারাও কিন্তু তৃপ্তির হাসিই হাসে। এরকম আরও অনেকেই আছে যাদের জন্য এই শহুরে ট্রাফিক জ্যাম বিধাতার আশীর্বাদ স্বরূপ।

এই যাহ! বেশি মন খারাপ করে দিলাম নিশ্চয়ই। তাইলে আসুন আপনাকে ট্রাফিক জ্যাম এর মন ভালো করা উপকারিতাও জানিয়ে দেই।

১. যদি আপনার কপাল ভালো থাকে তবে পাশের সিটের ছেলেটা/মেয়েটার সাথে আপনার একটা ইটিশ- পিটিশ সম্পর্ক হয়েও যেতে পারে।

২. অফিসের কাজে বেরিয়েছেন। হালকা একটা ঘুম দিয়ে নিন জ্যাম এ। আরে বস তো জানেই আপনি জ্যাম নামক চব্বিশ শিকে আটকা পরবেন।

৩. এখন তো BRTC বাসে WiFi সুবিধা দিয়েছে। ধুমায়া ডাউনলোড করুন। দেখবেন এই আপনিই আফসোস করবেন যখন দেখবেন আপনার ডাউনলোড কমপ্লিট হওয়ার আগেই আপনি গন্তব্ব্যে পৌঁছে গেছেন।

৪. জ্যাম বসে আপনি আপনার দিনের বাকি অংশের পরিকল্পনা চিন্তা ভাবনা করে সাজাতে পারেন, কোনো দুর্ঘটনা বা গুম হওয়ার ভয় ব্যাতিত!

৫. জ্যামে বসে আপনি আপনার দরকারি ফোনগুলো সেরে নিতে পারেন যেমন ধরেন আপনার শাশুড়িকে ফোন করে তার খোজ খবর নিন। দেখবেন আপনার বউ কেমন খুশি থাকে। আর বউ খুশি মানে তো দুনিয়া খুশি বুঝেনই তো। এছাড়া আপনি জ্যামে বসে কোনো আলগা হয়ে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগিয়ে নিতে পারেন!

৬. আপনি ইয়োগা বা কোয়ান্টামের মেডিটেশন চর্চাও ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই করতে পারেন জ্যামে বসে। দেখবেন মন ফুরফুরা হয়ে আকাশে উড়ে বেরাচ্ছে।

আমি তো অনেক বললাম। এইবার নিজের মাথাটা হালকা ঝাকান। দেখবেন আরও কতো সুবিধার ফিরিস্তি বেরিয়ে আসে আপনার মাথা দিয়ে। তবে আগেই বলে দিচ্ছি যদি আপনার মাথায় পর্যাপ্ত পরিমান উকুন থেকে থাকে তবে Only try this at home.

Thursday, June 12, 2014

ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক জিনিসটা কতো মজার!

ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক তেজপাতা রান্নার কাজে বেশ ব্যাবহারিত হয়ে থাকে। এই রান্না যে সে রান্না না। জীবনের রান্না। তেজপাতা রান্নায় ব্যাবহার করলে যেমন রান্নায় আলাদা একটা সুবাস আসে, তেমনি এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক বস্তুটি আপনার জীবনেও বেশ সুবাস ছড়াবে। জীবনের চলার পথে এই বস্তুটি আপনার প্রায়ই দরকার হবে। চাকরি করবেন? এলাকার কাউন্সিলর এর কাছ থেকে আপনাকে নিতে হবে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। চাকরি পালটাবেন? আগের বস এর কাছ থেকে লাগবে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। বিয়া করবেন? এলাকার গণ্যমান্যদের কাছ থেকে লাগবে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। সুতরাং বুঝতেই পারছেন কি চীজ এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। এই চীজ কিন্তু দুগ্ধজাত চীজ মনে কইরা খাইয়া ফেলতে পারবেন না। তাই বৃথা চেষ্টা কইরেন না।


আচ্ছা কখনো কি ভেবে দেখেছেন যারা আপনাকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিচ্ছে তাদের ক্যারেক্টার কেমন। বা তারা কার বা কাদের কাছ থেকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নিয়ে আপনার ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদেরই বা ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট আছে কিনা। পুরা ব্যাপারটাই একটা ভজগট ব্যাপার। তারপর ও মহার্ঘ জিনিসটা আমাদের জীবনে অনেক জরুরি। কিন্তু কি লাভ আসলে এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক বস্তুটি দিয়ে। আর ও মজার ব্যাপার হল যে আপনাকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিচ্ছে সে হয়ত আপনাকে চেনেও না। কিন্তু দিয়ে দিচ্ছে আপনাকে সার্টিফিকেট। বিনিময়ে হয়ত একশ বা দেরশ টাকা তাদের পকেটে ঢুকছে। তাহলে কি দরকার এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর। এখন অবশ্য ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর জন্য কাউন্সিলর বা পৌরসভার চেয়ারম্যান এর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন ও হয় না, নীলক্ষেত বা এলাকার কম্পিউটার কম্পোজ এর দোকানে গেলেই পাওয়া যায়।

এ তো গেলো সাধারন মানুষদের ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর কথা। সমাজের অসাধারন মানুষদের ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর জন্য অনেক মাধ্যম আছে। তাদের জন্য তো গণমাধ্যম আছেই। কারি কারি টাকা ঢালুন, আপনি অসুর হলেও আপনাকে দেবতা বানিয়ে দিবে বিনা দ্বিধায়। টাকা ঢালা বন্ধ করুন দেখবেন আপনি আবার আসল রুপে ফিরে আসবেন।ব্যাবসা টা ইদানিং বেশ ভালোই চালু।

তাই কি দরকার এই প্রহসনের। আমি বুঝি না এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিয়ে কি লাভ আসলে হয়? এই প্রথাটি অযথায় অনেক মানুষ কে হয়রানি করে। তেজপাতা খাবারের সুবাস বাড়ায় ঠিকই কিন্তু এইটা জরুরি না।

আমরা কি আমাদের সংস্কৃতির আধুনিকায়ন এর বদলে ভারতায়ন করে ফেলছি?

জাতি হিসেবে আমরা আগাগোঁড়াই একটু বিদেশ ঘেসা। বেড়ার ওপারের ঘাস যেমন একটু বেশিই সবুজ তেমনি আমাদের কাছে বিদেশি সবকিছুই একটু বেশি ভালো। সেই তখন থেকে যখন প্রথম জাহাজ এসে বাংলা স্পর্শ করে তখন থেকেই আমরা একটু বেশিই বিদেশপ্রেমী। আমরা কখনো ওলন্দাজদের ভালবেসেছি তো কখনো ইংরেজদের। কখনো রাশিয়ানদের তো কখনো মার্কিনীদের। কখনো চাইনিজদের তো কখনো ভারতীয়দের। এদের প্রত্যেকে আমাদের ধর্ষণ করেছে ইচ্ছেমত আর আমরা প্রতিনিয়ত গর্বিত হয়েছি আর কলার উচু করে (সার্ট পড়া শুরু করার আগে বুক ফুলিয়ে) ভেবেছি যাহ শালা, বিদেশিদের কাছে ধর্ষিত হওয়ার মজাই আলাদা। আমরা নিয়মিত নিজেদের রং মেখে সাজিয়ে তুলি বিদেশিদের আকর্ষিত করার জন্য।

দেখুন আমি কিন্তু বিদেশ বিরোধী কেও না। আমি ও চাই সংস্কৃতির আধুনিকায়ন। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে সেটাকে আধুনিকায়ন না বলে ভারতায়ন বলাটা মনে হয় খুব বেশি ভুল হবে না। ভারতীয় অমুক ভারতীয় তমুক এর ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নিজস্বতা, স্বকীয়তা। একটি জাতির আচার আচরন, কৃষ্টি কালচার বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় যে সব ফুটে উঠে তার সমষ্টি হল সেই জাতির সংস্কৃতি। একটা জাতির সংস্কৃতি সেই জাতির স্বকীয়তা। সেই স্বকীয়তা যদি হারিয়ে যায় তবে সেই জাতি ও হারিয়ে যাবে। কিন্তু ভারতীয় চ্যানেল এর আগ্রাসন যে আমাদের সমাজে বর্তমানে কি অবস্থায় আছে সেটা আমি আপনাকে একটি ভারতীয় চানেল এ বেশ কিছুদিন আগে প্রচারিত সিরিয়াল এর নাম দিয়েই বুঝাতে পাড়ি। সেটা হল "কাহানি ঘার ঘার কি"। উদ্ভট ভাবে মেকআপ করে কিছু মহিলা গহনার ভারে বেকিয়ে পড়ে দিনরাত ঝগড়া করে যাচ্ছে তাদের শাশুড়ি অথবা বউ এর সাথে এই চ্যানেলগুলোতে। এদের ডেইলি সোপ মানে প্রতিদিন গোসল করার সাবান দেখলে মনে হয় ভারতে প্রতি বাসায় একটা করে বিউটি পার্লার আছে। আমাদের মোড়কের চাকচিক্য দেখে পণ্য কেনার প্রবনতা একটু বেশি তাই এদের প্রতি আমরা একটু বেশিই আকৃষ্ট হয়ে পরছি দিন দিন। ভারতীয় চ্যানেল এর ভিড়ে রীতিমত খাবি খাচ্ছে আমাদের চ্যানেলগুলো। তবে বর্তমানে টক-ঝাল-মিষ্টি শো এর মাধ্যমে চ্যানেল গুলো কিছু কামাই করছে কারন আমরা বেশ ঝগড়া প্রিয় জাতি। কাওকে ঝগড়া করতে দেখলে আমরা বেশ আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করি। কিন্তু ঝগড়া করে কতদিন? তবে এই ভারতীয় চ্যানেল এর আগ্রাসন এর ক্ষেত্রে আমি বেশি দায়ী মনে করি আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলোকে। নিম্ন মানের অনুষ্ঠান প্রচার করে তারা যদি মনে করে দর্শক ধরে রাখবে তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে।

বেশ কয়েকবছর ধরেই দেখছি দেবদাস পাঞ্জাবি, পার্বতী শাড়ি, ধুম মাচালে প্যান্ট এইরকম পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে ওঠে। কেন হয়? কারন আমরা এধরনের নামের পোশাক খুব পছন্দ করি। মার মার কাট কাট বিক্রি হয় এধরনের পোশাক। আমি বলছি না সাকিব খান পাঞ্জাবি বা মুনমুন শাড়ি হতে হবে। কিন্তু কেন এমন উদ্ভট নামে পোশাক বিক্রি করবো। পাঞ্জাবি কি পাঞ্জাবি নামে বিক্রি হয় না?

কিছুদিন আগে দেখলাম ডরেমন নামক কার্টুনটির সম্প্রচার বন্ধ করার জন্য মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বসিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে কার্টুনটির সম্প্রচার। কিন্তু তার বিনিময়ে আমরা আমাদের সোনামণিদের কি দিতে পেরেছি। একরাশ হতাশা ছাড়া তো আমি কিছু দেখি না। আগুন দিয়ে ঘর পুরতে পারে বলে ঘরে আগুন না জ্বালানর পক্ষপাতি আমি না। বরং সাবধানে আগুন জ্বালানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

দেখুন মুক্ত বাজার অর্থনীতির যুগে আপনি যদি ভালো পণ্য উৎপাদন না করতে পারেন তবে আপনার পণ্য কেও ছুয়েও দেখবে না। বাজারে টিকে থাকতে হলে আপনাকে ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করতে হবে। জনগনের নিশ্চয়ই ঠ্যাকা পড়েনি যে টাকা দিয়ে নিম্ন মানের পণ্য কিনবে। তেমনি ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন ঠেকাতে হলে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে যথার্থ ভাবে তুলে ধরতে হবে। তাই ভারতায়ন ঠেকাতে হলে আমাদের যেটা করতে হবে সেটা হল ভারতের চাইতে উন্নতমানের অনুষ্ঠান তৈরি করতে হবে। এটা কি খুব কঠিন কিছু? আমার তো মনে হয় না।

শেষ করতে চাই রবীন্দ্রনাথ কে দিয়ে। গান্ধী যখন অসহযোগ আন্দোলন করছিল তখন সে চাইতো রবিবাবু তার আন্দোলনে শরিক হোক। কিন্তু কোনভাবেই কবিগুরুকে রাজি করাতে পারেন নি। রবিবাবুর একটাই কথা ছিল, যে আন্দোলনের কারনে দেশের গরিব মানুষ কে বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে সেই আন্দোলনে সে নেই। কারন রবিবাবু খুব ভালো করেই জানতেন নিজেদের সীমাবদ্ধতা। তাই বলছি সংস্কৃতির ভারতায়ন ঠেকাতে ভারতীয় টিভি চ্যানেল বর্জন কোণ সমাধান না। প্রয়োজন নিজেদের টিভি চ্যানেলের পরিমার্জন। আমরা চাইলে পাড়ি না এমন কিছু আছে নাকি? খালি চাইতে একটু সময় বেশি নেই। যে জাতি নিজের ভাষায় কথা বলার জন্য জীবন দিতে পারে সেই জাতি নিজের সংস্কৃতিকেও টিকিয়ে রাখবে সন্দেহ নেই। কিন্তু অতিরিক্ত অসুস্থ হয়ে পড়ার আগেই চিকিৎসা করানো বুদ্ধিমানের কাজ। হাসপাতালের আইসিইউ এর খরচ একটু বেশিই। অতিরিক্ত অসুস্থ হয়ে পরলে রোগমুক্তির মূল্য একটু বেশিই দিতে হবে। তাই আসুন আমরা সবাই খোদার কাছে দোয়া করি "আমার পরিবার যেন থাকে ভারতীয় চ্যানেলের মোহমুক্ত"।

আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে!

ছোটবেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয় আমরা নাকি সবাই রাজা। আমার মনে পড়ে আমার ছোটবেলা কেটেছে সুর করে করে “আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” গাইতে গাইতে। গানটি রবি বাবু যে কারনেই লিখে থাকুক না কেন, যে অর্থই প্রকাশ করে থাকুক না কেন, আমরা মনে হয় ছোটবেলা থেকেই ধরে নিয়েছি আমি ই হলাম রাজা আর বাকি সবাই প্রজা। রবি বাবু বড় ভয়ংকর কাজ করে দিয়ে গেছেন। তার বহিঃপ্রকাশ প্রতি সকালে দরজার নিচ দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে যাওয়া পৃথিবীতে অর্থাৎ সংবাদপত্র চোখের সামনে মেলে ধরলেই আমরা দেখতে পাই। আমি তো প্রতিদিন সকালে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে দৈনিক এর পাতা উলটাই আর চিন্তা করি আমার রাজ্যে এরা কারা। তারপর নিজের অজান্তেই চিৎকার করে উঠি “খামোশ”। তখনি দিগুন জোরে মা চিৎকার দিয়ে বলে- ” পেপার পড়ছিস পড়। হুদাই চিল্লাইস না।” নিজের মধ্যে জাগ্রত রাজা রাজা ভাব ও রাজত্ব দুটোই ফুটো হয়ে যাওয়া বেলুনের মতো চুপসে যায় তৎক্ষণাৎ। বুঝতে পাড়ি রাজা আমি একাই না। আরও ১৬ কোটি আছে আমার এই ছোট্ট দেশে। কিন্তু সমস্যা হল সবার বাসায় মনে হয় আমার বাসার মতো একজন করে মা নেই যে চিৎকার করে আমার মতো উটকো রাজাদের রাজাগিরি ফলানো বন্ধ করে দিবে। কিছু রাজা তাই নিজের প্রতাপ দেখাতে ছাড়ে না।

আসলে আমাদের কি দোষ। আমরা বড়ই তো হয়েছি রাজা হিসেবে। আর আমরা ঐতিহাসিক ভাবে রাজা বা বাদশাহ হিসেবে যাদের চিনেছি তারা তাদের প্রতাপ এর যে তাপ ছড়িয়েছে তাতে আমাদের বর্তমান রাজসিক হাবভাব খুব যে বাহুল্য টা কিন্তু বলা যাবে না। এক মুঘলদের কাছ থেকে আমরা যা শিখেছি তাই কি যথেষ্ট নয়। এছাড়া ফিরিঙ্গি রাজাদের প্রতাপ এর তাপে আমাদের পূর্বপুরুষরা তো কম পোড়েনি! আর মগ রাজার সেনারা তো আমাদের দেশ কে প্রায় মগের মুল্লুক ই বানিয়ে ফেলেছিল।

ইতিহাস থেকে আমরা প্রতিনিয়ত শিক্ষা নেই। কিন্তু মজার ব্যাপার হল আমরা সাধারনত সুশিক্ষা না নিয়ে কুশিক্ষা টাই বেশি গ্রহন করি। তাইতো আমরা নিজ নিজ রাজত্বে একেকজন মহাপরাক্রমশালী রাজা। এখানে মজার ব্যাপার হল আমাদের মধ্যে যারা একটু বেশিই প্রতাপশালী তাদের রাজত্ব একটু তারাতারিই বড় হতে থাকে। আশেপাশের রাজারা তখন রাজ্য হারিয়ে দাসে পরিনত হয়। এমনটাই কি আমাদের দেশে হচ্ছে না? প্রতিদিন কি এইসব মহাপরাক্রমশালী রাজাদের প্রতাপের তাপে আমাদের মতো কম পরাক্রমশালী রাজারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে না?

তাই আসুন আমরা আমাদের উত্তরসূরিদের এই রাজা হওয়া থেকে বিরত রাখার ব্যাবস্থা এখন ই গ্রহন করি নাহলে আজ, কাল আর পরশুর মধ্যে কোণ তফাৎ থাকবে না। তাই বলে আবার ভেবে বসেন না আমি বলছি যে আপনার উত্তরসূরিদের রবি বাবুর গান গাওয়া বন্ধ করে দিবেন। তাকে আপনি “আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” শেখানোর সাথে সাথে একি গানের “রাজা সবারে দেন মান, সে মান আপনি ফিরে পান” লাইন টি ও ভালো করে শিখান।