Saturday, June 14, 2014

বেশি করে সিম কিনুন, বন্ধ সিমের অফার লুটুন!



মোবাইল ফোন ব্যাবহার করি সেই ২০০৩ সাল থেকে। আর গ্রামীণফোন এর বর্তমান যে সিম ব্যাবহার করি সেটা ২০০৫ সালে কেনা। কখনো বন্ধ করি নি। হিসেব করলে দেখা যায় আমি ৯ বছর, ২ মাস, ১ দিন অর্থাৎ ৩৩৪৯ দিন যাবৎ এই সিম টি ব্যাবহার করছি। নিজেকে তাহলে গ্রামীণ ফোন এর কিছুটা লয়াল কাস্টমার বলতেই পারি কি বলেন?

কিন্তু খারাপ লাগে যখন দৈনিক পত্রিকার পাতায় পাতায় দেখি গ্রামীণফোন সহ অন্যান্য মোবাইল অপারেটর এর বন্ধ সিম চালু করলে অমুক তমুক অফার। এই তো কয়েকদিন আগেই দেখলাম গ্রামীণ ফোন এর বন্ধ সিম চালু করলে মাত্র ১০ টাকায় ১ জিবি ইন্টারনেট প্যাকেজ যেখানে আমরা যারা এতো বছর ধরে সিম চালু রেখেছি, তারা ওই একি প্যাকেজ ব্যাবহার করবো প্রায় সাড়ে তিনশো টাকায়। তো লয়াল থাকার মূল্য কতো দেখলেন তো? আমার এক বন্ধু আছে যে সব অপারেটর এর ২-৩ টা করে সিম কিনে রেখেছে। বন্ধ করে রাখে। যখন যেটা অফার দেয় সেটা চালু করে। এইতো সেদিন আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ১০ টাকার ১ জিবি ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যাবহার করছিল আর আমাকে উপহাস করছিল। ও আমাকে অনেক বার বলেছিল কয়েকটা সিম কিনে বন্ধ করে রাখতে। কিন্তু কেন যেন হয়ে ওঠেনি। কয়েকদিন আগে এইটা নিয়ে ফেসবুক এ একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। ওখানে দেখলাম আমার মতো পাপি অনেকেই আছে। আবার এক বন্ধু কমেন্ট করলো ফোন অপারেটরদের এই বদান্যতায় নাকি তার লাভ লাইফ বেশ ভালোই কেটেছে। তার ও বেশ কয়েকটা সিম ছিল। একটা রেখে একটা তে অফার পেত। ধুমায়া প্রেম করতো। বেচারা বিয়ে করে ফেলেছে।

এখন ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে ফোন অপারেটর গুলার কাছে ডিভোর্সি বউ বেশি পছন্দের অথচ ঘরের বউ থাকে অবহেলায়। তাই আপনি ও যদি ঘন ঘন মোবাইল অপারেটর গুলকে ডিভোর্স দিতে পারেন তাহলে দেখবেন আপনি ও খাতির যত্ন বেশ ভালোই পাবেন। তাই ভাবছি যেমন কুকুর তেমন মুগুর হাতে নিতে হবে। উপায় নাইরে গোলাম হোসেন! আপনি বাদ যাবেনকেন? বেশি করে সিম কিনুন, বন্ধ সিমের অফার লুটুন!

Friday, June 13, 2014

শহুরে ট্রাফিক জ্যাম- মুখ গুজে হাসে বিধাতা!

"উফ জ্যাম, আহ জ্যাম। সারাটা দিনতো রাস্তায় কেটে গেলো।" - পাশের সিটে বসা ভাবি।

হ্যাঁ, আপনার আমার অনুভুতি ও ঠিক এরকমই প্রতিনিয়ত। দিন শেষে আপনি আমি বাড়ি ফিরছি রাজ্যের বিরক্তির ধুলো গায়ে মেখে। এ ধুলো শালার এমনি ধুলো কুসুম গরম পানি (অবশ্যই শীতকালে) অথবা বরফ ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলেও যেতে চায় না। সে আপনি যতো দামি বিদেশি ব্রান্ডের সাবান দিয়ে ঘষে ঘষেই গোসল করুন না কেন? কিন্তু আপনি কখনো ভেবে দেখেছেন কি এই ট্রাফিক জ্যাম আছে বলেই কিছু মানুষ দিনশেষে বাড়ি ফেরে একরাশ স্বস্তি নিয়ে। কি অবাক হচ্ছেন নাকি?

আচ্ছা একটু ভাবুন তো যে ছোট ছোট বাচ্চাগুলো গাল ভরতি হাসি আর মুঠো ভরতি ফুল নিয়ে জ্যাম এর মধ্যে ছুটে ছুটে ফুল বিক্রি করে, জ্যাম না হলে তার কি হতো? পঙ্গু বাবা অথবা অসহায় বিধবা মা বাচ্চার গোমড়া মুখে বাড়ি ফেরা দেখে হয়তো মুখ লুকিয়ে দেশের পানির অভাব কিছুটা কমাতো।

অথবা ভাবুন সেই সব আবাল- বৃদ্ধ- বনিতার কথা যারা বোতল ভরতি ঠাণ্ডা পানি নিয়ে একবার আমার কাছে একবার আপনার কাছে ছুটে ছুটে আসে। আপনি বা আমি যখন বোতলের ছিপি খুলে ঠাণ্ডা পানি গলায় ঢেলে তৃপ্তির হাসিতে আবহাওয়া অন্যরকম করে ফেলি তখন তারাও কিন্তু তৃপ্তির হাসিই হাসে। এরকম আরও অনেকেই আছে যাদের জন্য এই শহুরে ট্রাফিক জ্যাম বিধাতার আশীর্বাদ স্বরূপ।

এই যাহ! বেশি মন খারাপ করে দিলাম নিশ্চয়ই। তাইলে আসুন আপনাকে ট্রাফিক জ্যাম এর মন ভালো করা উপকারিতাও জানিয়ে দেই।

১. যদি আপনার কপাল ভালো থাকে তবে পাশের সিটের ছেলেটা/মেয়েটার সাথে আপনার একটা ইটিশ- পিটিশ সম্পর্ক হয়েও যেতে পারে।

২. অফিসের কাজে বেরিয়েছেন। হালকা একটা ঘুম দিয়ে নিন জ্যাম এ। আরে বস তো জানেই আপনি জ্যাম নামক চব্বিশ শিকে আটকা পরবেন।

৩. এখন তো BRTC বাসে WiFi সুবিধা দিয়েছে। ধুমায়া ডাউনলোড করুন। দেখবেন এই আপনিই আফসোস করবেন যখন দেখবেন আপনার ডাউনলোড কমপ্লিট হওয়ার আগেই আপনি গন্তব্ব্যে পৌঁছে গেছেন।

৪. জ্যাম বসে আপনি আপনার দিনের বাকি অংশের পরিকল্পনা চিন্তা ভাবনা করে সাজাতে পারেন, কোনো দুর্ঘটনা বা গুম হওয়ার ভয় ব্যাতিত!

৫. জ্যামে বসে আপনি আপনার দরকারি ফোনগুলো সেরে নিতে পারেন যেমন ধরেন আপনার শাশুড়িকে ফোন করে তার খোজ খবর নিন। দেখবেন আপনার বউ কেমন খুশি থাকে। আর বউ খুশি মানে তো দুনিয়া খুশি বুঝেনই তো। এছাড়া আপনি জ্যামে বসে কোনো আলগা হয়ে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগিয়ে নিতে পারেন!

৬. আপনি ইয়োগা বা কোয়ান্টামের মেডিটেশন চর্চাও ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই করতে পারেন জ্যামে বসে। দেখবেন মন ফুরফুরা হয়ে আকাশে উড়ে বেরাচ্ছে।

আমি তো অনেক বললাম। এইবার নিজের মাথাটা হালকা ঝাকান। দেখবেন আরও কতো সুবিধার ফিরিস্তি বেরিয়ে আসে আপনার মাথা দিয়ে। তবে আগেই বলে দিচ্ছি যদি আপনার মাথায় পর্যাপ্ত পরিমান উকুন থেকে থাকে তবে Only try this at home.

Thursday, June 12, 2014

ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক জিনিসটা কতো মজার!

ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক তেজপাতা রান্নার কাজে বেশ ব্যাবহারিত হয়ে থাকে। এই রান্না যে সে রান্না না। জীবনের রান্না। তেজপাতা রান্নায় ব্যাবহার করলে যেমন রান্নায় আলাদা একটা সুবাস আসে, তেমনি এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক বস্তুটি আপনার জীবনেও বেশ সুবাস ছড়াবে। জীবনের চলার পথে এই বস্তুটি আপনার প্রায়ই দরকার হবে। চাকরি করবেন? এলাকার কাউন্সিলর এর কাছ থেকে আপনাকে নিতে হবে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। চাকরি পালটাবেন? আগের বস এর কাছ থেকে লাগবে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। বিয়া করবেন? এলাকার গণ্যমান্যদের কাছ থেকে লাগবে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। সুতরাং বুঝতেই পারছেন কি চীজ এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। এই চীজ কিন্তু দুগ্ধজাত চীজ মনে কইরা খাইয়া ফেলতে পারবেন না। তাই বৃথা চেষ্টা কইরেন না।


আচ্ছা কখনো কি ভেবে দেখেছেন যারা আপনাকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিচ্ছে তাদের ক্যারেক্টার কেমন। বা তারা কার বা কাদের কাছ থেকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নিয়ে আপনার ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদেরই বা ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট আছে কিনা। পুরা ব্যাপারটাই একটা ভজগট ব্যাপার। তারপর ও মহার্ঘ জিনিসটা আমাদের জীবনে অনেক জরুরি। কিন্তু কি লাভ আসলে এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক বস্তুটি দিয়ে। আর ও মজার ব্যাপার হল যে আপনাকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিচ্ছে সে হয়ত আপনাকে চেনেও না। কিন্তু দিয়ে দিচ্ছে আপনাকে সার্টিফিকেট। বিনিময়ে হয়ত একশ বা দেরশ টাকা তাদের পকেটে ঢুকছে। তাহলে কি দরকার এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর। এখন অবশ্য ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর জন্য কাউন্সিলর বা পৌরসভার চেয়ারম্যান এর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন ও হয় না, নীলক্ষেত বা এলাকার কম্পিউটার কম্পোজ এর দোকানে গেলেই পাওয়া যায়।

এ তো গেলো সাধারন মানুষদের ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর কথা। সমাজের অসাধারন মানুষদের ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর জন্য অনেক মাধ্যম আছে। তাদের জন্য তো গণমাধ্যম আছেই। কারি কারি টাকা ঢালুন, আপনি অসুর হলেও আপনাকে দেবতা বানিয়ে দিবে বিনা দ্বিধায়। টাকা ঢালা বন্ধ করুন দেখবেন আপনি আবার আসল রুপে ফিরে আসবেন।ব্যাবসা টা ইদানিং বেশ ভালোই চালু।

তাই কি দরকার এই প্রহসনের। আমি বুঝি না এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিয়ে কি লাভ আসলে হয়? এই প্রথাটি অযথায় অনেক মানুষ কে হয়রানি করে। তেজপাতা খাবারের সুবাস বাড়ায় ঠিকই কিন্তু এইটা জরুরি না।

আমরা কি আমাদের সংস্কৃতির আধুনিকায়ন এর বদলে ভারতায়ন করে ফেলছি?

জাতি হিসেবে আমরা আগাগোঁড়াই একটু বিদেশ ঘেসা। বেড়ার ওপারের ঘাস যেমন একটু বেশিই সবুজ তেমনি আমাদের কাছে বিদেশি সবকিছুই একটু বেশি ভালো। সেই তখন থেকে যখন প্রথম জাহাজ এসে বাংলা স্পর্শ করে তখন থেকেই আমরা একটু বেশিই বিদেশপ্রেমী। আমরা কখনো ওলন্দাজদের ভালবেসেছি তো কখনো ইংরেজদের। কখনো রাশিয়ানদের তো কখনো মার্কিনীদের। কখনো চাইনিজদের তো কখনো ভারতীয়দের। এদের প্রত্যেকে আমাদের ধর্ষণ করেছে ইচ্ছেমত আর আমরা প্রতিনিয়ত গর্বিত হয়েছি আর কলার উচু করে (সার্ট পড়া শুরু করার আগে বুক ফুলিয়ে) ভেবেছি যাহ শালা, বিদেশিদের কাছে ধর্ষিত হওয়ার মজাই আলাদা। আমরা নিয়মিত নিজেদের রং মেখে সাজিয়ে তুলি বিদেশিদের আকর্ষিত করার জন্য।

দেখুন আমি কিন্তু বিদেশ বিরোধী কেও না। আমি ও চাই সংস্কৃতির আধুনিকায়ন। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে সেটাকে আধুনিকায়ন না বলে ভারতায়ন বলাটা মনে হয় খুব বেশি ভুল হবে না। ভারতীয় অমুক ভারতীয় তমুক এর ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নিজস্বতা, স্বকীয়তা। একটি জাতির আচার আচরন, কৃষ্টি কালচার বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় যে সব ফুটে উঠে তার সমষ্টি হল সেই জাতির সংস্কৃতি। একটা জাতির সংস্কৃতি সেই জাতির স্বকীয়তা। সেই স্বকীয়তা যদি হারিয়ে যায় তবে সেই জাতি ও হারিয়ে যাবে। কিন্তু ভারতীয় চ্যানেল এর আগ্রাসন যে আমাদের সমাজে বর্তমানে কি অবস্থায় আছে সেটা আমি আপনাকে একটি ভারতীয় চানেল এ বেশ কিছুদিন আগে প্রচারিত সিরিয়াল এর নাম দিয়েই বুঝাতে পাড়ি। সেটা হল "কাহানি ঘার ঘার কি"। উদ্ভট ভাবে মেকআপ করে কিছু মহিলা গহনার ভারে বেকিয়ে পড়ে দিনরাত ঝগড়া করে যাচ্ছে তাদের শাশুড়ি অথবা বউ এর সাথে এই চ্যানেলগুলোতে। এদের ডেইলি সোপ মানে প্রতিদিন গোসল করার সাবান দেখলে মনে হয় ভারতে প্রতি বাসায় একটা করে বিউটি পার্লার আছে। আমাদের মোড়কের চাকচিক্য দেখে পণ্য কেনার প্রবনতা একটু বেশি তাই এদের প্রতি আমরা একটু বেশিই আকৃষ্ট হয়ে পরছি দিন দিন। ভারতীয় চ্যানেল এর ভিড়ে রীতিমত খাবি খাচ্ছে আমাদের চ্যানেলগুলো। তবে বর্তমানে টক-ঝাল-মিষ্টি শো এর মাধ্যমে চ্যানেল গুলো কিছু কামাই করছে কারন আমরা বেশ ঝগড়া প্রিয় জাতি। কাওকে ঝগড়া করতে দেখলে আমরা বেশ আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করি। কিন্তু ঝগড়া করে কতদিন? তবে এই ভারতীয় চ্যানেল এর আগ্রাসন এর ক্ষেত্রে আমি বেশি দায়ী মনে করি আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলোকে। নিম্ন মানের অনুষ্ঠান প্রচার করে তারা যদি মনে করে দর্শক ধরে রাখবে তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে।

বেশ কয়েকবছর ধরেই দেখছি দেবদাস পাঞ্জাবি, পার্বতী শাড়ি, ধুম মাচালে প্যান্ট এইরকম পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে ওঠে। কেন হয়? কারন আমরা এধরনের নামের পোশাক খুব পছন্দ করি। মার মার কাট কাট বিক্রি হয় এধরনের পোশাক। আমি বলছি না সাকিব খান পাঞ্জাবি বা মুনমুন শাড়ি হতে হবে। কিন্তু কেন এমন উদ্ভট নামে পোশাক বিক্রি করবো। পাঞ্জাবি কি পাঞ্জাবি নামে বিক্রি হয় না?

কিছুদিন আগে দেখলাম ডরেমন নামক কার্টুনটির সম্প্রচার বন্ধ করার জন্য মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বসিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে কার্টুনটির সম্প্রচার। কিন্তু তার বিনিময়ে আমরা আমাদের সোনামণিদের কি দিতে পেরেছি। একরাশ হতাশা ছাড়া তো আমি কিছু দেখি না। আগুন দিয়ে ঘর পুরতে পারে বলে ঘরে আগুন না জ্বালানর পক্ষপাতি আমি না। বরং সাবধানে আগুন জ্বালানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

দেখুন মুক্ত বাজার অর্থনীতির যুগে আপনি যদি ভালো পণ্য উৎপাদন না করতে পারেন তবে আপনার পণ্য কেও ছুয়েও দেখবে না। বাজারে টিকে থাকতে হলে আপনাকে ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করতে হবে। জনগনের নিশ্চয়ই ঠ্যাকা পড়েনি যে টাকা দিয়ে নিম্ন মানের পণ্য কিনবে। তেমনি ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন ঠেকাতে হলে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে যথার্থ ভাবে তুলে ধরতে হবে। তাই ভারতায়ন ঠেকাতে হলে আমাদের যেটা করতে হবে সেটা হল ভারতের চাইতে উন্নতমানের অনুষ্ঠান তৈরি করতে হবে। এটা কি খুব কঠিন কিছু? আমার তো মনে হয় না।

শেষ করতে চাই রবীন্দ্রনাথ কে দিয়ে। গান্ধী যখন অসহযোগ আন্দোলন করছিল তখন সে চাইতো রবিবাবু তার আন্দোলনে শরিক হোক। কিন্তু কোনভাবেই কবিগুরুকে রাজি করাতে পারেন নি। রবিবাবুর একটাই কথা ছিল, যে আন্দোলনের কারনে দেশের গরিব মানুষ কে বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে সেই আন্দোলনে সে নেই। কারন রবিবাবু খুব ভালো করেই জানতেন নিজেদের সীমাবদ্ধতা। তাই বলছি সংস্কৃতির ভারতায়ন ঠেকাতে ভারতীয় টিভি চ্যানেল বর্জন কোণ সমাধান না। প্রয়োজন নিজেদের টিভি চ্যানেলের পরিমার্জন। আমরা চাইলে পাড়ি না এমন কিছু আছে নাকি? খালি চাইতে একটু সময় বেশি নেই। যে জাতি নিজের ভাষায় কথা বলার জন্য জীবন দিতে পারে সেই জাতি নিজের সংস্কৃতিকেও টিকিয়ে রাখবে সন্দেহ নেই। কিন্তু অতিরিক্ত অসুস্থ হয়ে পড়ার আগেই চিকিৎসা করানো বুদ্ধিমানের কাজ। হাসপাতালের আইসিইউ এর খরচ একটু বেশিই। অতিরিক্ত অসুস্থ হয়ে পরলে রোগমুক্তির মূল্য একটু বেশিই দিতে হবে। তাই আসুন আমরা সবাই খোদার কাছে দোয়া করি "আমার পরিবার যেন থাকে ভারতীয় চ্যানেলের মোহমুক্ত"।

আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে!

ছোটবেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয় আমরা নাকি সবাই রাজা। আমার মনে পড়ে আমার ছোটবেলা কেটেছে সুর করে করে “আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” গাইতে গাইতে। গানটি রবি বাবু যে কারনেই লিখে থাকুক না কেন, যে অর্থই প্রকাশ করে থাকুক না কেন, আমরা মনে হয় ছোটবেলা থেকেই ধরে নিয়েছি আমি ই হলাম রাজা আর বাকি সবাই প্রজা। রবি বাবু বড় ভয়ংকর কাজ করে দিয়ে গেছেন। তার বহিঃপ্রকাশ প্রতি সকালে দরজার নিচ দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে যাওয়া পৃথিবীতে অর্থাৎ সংবাদপত্র চোখের সামনে মেলে ধরলেই আমরা দেখতে পাই। আমি তো প্রতিদিন সকালে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে দৈনিক এর পাতা উলটাই আর চিন্তা করি আমার রাজ্যে এরা কারা। তারপর নিজের অজান্তেই চিৎকার করে উঠি “খামোশ”। তখনি দিগুন জোরে মা চিৎকার দিয়ে বলে- ” পেপার পড়ছিস পড়। হুদাই চিল্লাইস না।” নিজের মধ্যে জাগ্রত রাজা রাজা ভাব ও রাজত্ব দুটোই ফুটো হয়ে যাওয়া বেলুনের মতো চুপসে যায় তৎক্ষণাৎ। বুঝতে পাড়ি রাজা আমি একাই না। আরও ১৬ কোটি আছে আমার এই ছোট্ট দেশে। কিন্তু সমস্যা হল সবার বাসায় মনে হয় আমার বাসার মতো একজন করে মা নেই যে চিৎকার করে আমার মতো উটকো রাজাদের রাজাগিরি ফলানো বন্ধ করে দিবে। কিছু রাজা তাই নিজের প্রতাপ দেখাতে ছাড়ে না।

আসলে আমাদের কি দোষ। আমরা বড়ই তো হয়েছি রাজা হিসেবে। আর আমরা ঐতিহাসিক ভাবে রাজা বা বাদশাহ হিসেবে যাদের চিনেছি তারা তাদের প্রতাপ এর যে তাপ ছড়িয়েছে তাতে আমাদের বর্তমান রাজসিক হাবভাব খুব যে বাহুল্য টা কিন্তু বলা যাবে না। এক মুঘলদের কাছ থেকে আমরা যা শিখেছি তাই কি যথেষ্ট নয়। এছাড়া ফিরিঙ্গি রাজাদের প্রতাপ এর তাপে আমাদের পূর্বপুরুষরা তো কম পোড়েনি! আর মগ রাজার সেনারা তো আমাদের দেশ কে প্রায় মগের মুল্লুক ই বানিয়ে ফেলেছিল।

ইতিহাস থেকে আমরা প্রতিনিয়ত শিক্ষা নেই। কিন্তু মজার ব্যাপার হল আমরা সাধারনত সুশিক্ষা না নিয়ে কুশিক্ষা টাই বেশি গ্রহন করি। তাইতো আমরা নিজ নিজ রাজত্বে একেকজন মহাপরাক্রমশালী রাজা। এখানে মজার ব্যাপার হল আমাদের মধ্যে যারা একটু বেশিই প্রতাপশালী তাদের রাজত্ব একটু তারাতারিই বড় হতে থাকে। আশেপাশের রাজারা তখন রাজ্য হারিয়ে দাসে পরিনত হয়। এমনটাই কি আমাদের দেশে হচ্ছে না? প্রতিদিন কি এইসব মহাপরাক্রমশালী রাজাদের প্রতাপের তাপে আমাদের মতো কম পরাক্রমশালী রাজারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে না?

তাই আসুন আমরা আমাদের উত্তরসূরিদের এই রাজা হওয়া থেকে বিরত রাখার ব্যাবস্থা এখন ই গ্রহন করি নাহলে আজ, কাল আর পরশুর মধ্যে কোণ তফাৎ থাকবে না। তাই বলে আবার ভেবে বসেন না আমি বলছি যে আপনার উত্তরসূরিদের রবি বাবুর গান গাওয়া বন্ধ করে দিবেন। তাকে আপনি “আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” শেখানোর সাথে সাথে একি গানের “রাজা সবারে দেন মান, সে মান আপনি ফিরে পান” লাইন টি ও ভালো করে শিখান।

Tuesday, May 13, 2014

জ্যানিস জপলিন- এক খসে পড়া তারা!

John Denver এর "Leaving on a Jet Plane" গানটিকে ক্লাসিক না বললে মারাত্মক ভুল হয়। অসম্ভব প্রিয় একটা গান। কিন্তু দুদিন আগে এক ছোট ভাই আমাকে জ্যানিস জপলিন (Janis Joplin) এর কাভার করা "Leaving on a Jet Plane" দিলো শুনতে। জানিনা আমার তুলনা করা ঠিক হবে কিনা তবে আমার কাছে মনে হয়েছে জ্যানিস Denver অপেক্ষা ভালো করে ফেলেছে। জ্যানিস এর কাভার করা গানটি একবার শুনেই দেখুন না।
                                      
                                           


এবার মুল কথায় ফিরে আসি। কেন বললাম জ্যানিস জপলিন- এক খসে পড়া তারা! মাত্র ২৭ বছর বেচেছিল এই প্রতিভাবান রক অ্যান্ড রোল শিল্পী। ১৯৪৩ সালে জম্নগ্রহন করে মাড়া যায় ১৯৭০ সালে। কিন্তু এই অল্প সময়েই নাড়া দিয়ে গেছে অনেকের হৃদয়ে বুঝলাম গুগল করে। Rolling Stone ম্যাগাজিন এর list of the 100 Greatest Artists of All Time এ জ্যানিস এর অবস্থান ২৮ তম। তাহলে বুঝতেই পারছেন কেন আমি তাকে খসে পড়া তারা বলেছি। মাত্র ৮ বছরের ক্যারিয়ার এ এমন অবস্থান পাওয়া তো চট্টিখানি ব্যাপার না কি বলেন? কিন্তু নেশা কেড়ে নিল এই প্রতিভাবান এর জীবন। ১৯৭০ সালের ৪ঠা অক্টোবর তাকে Landmark Motor Hotel এ মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর কারন অতিরিক্ত মাত্রায় হেরোইন সেবন।

যদি কখনো জ্যানিস এর গান শুনে না থাকেন তাহলে একবার শুনে দেখুন। ভালো লাগবে অনেক আশা করি। আমি তো এই দুদিন হোলও শুধু জ্যানিস এর গান ই শুনছি। মানবজাতির দুর্ভাগ্যই বলবো এমন একজন শিল্পী অকালে ঝরে গেলো। বেঁচে থাকলে আরও অসংখ্য ভালো মানের গান শোনা যেত।



Monday, May 5, 2014

এপ্রিল ফুলস ডে - একটু ইতিহাস ঘেঁটে দেখা।

আগামি কাল ১ লা এপ্রিল। যে দিন টি পালিত হয় বিশ্ব বোকা দিবস হিসেবে। কিন্তু দেখছি কিছু মানুষ ফেসবুক, ব্লগ, টুইটের মাধ্যমে এই দিনটির বিরধিতা করে বেশ প্রচার চালাচ্ছে। এই দিনটির সাথে যুক্ত করা হয়েছে ধর্মীয় বিতর্ক। তারা বলছে এপ্রিল ফুল দিবসটি সৃষ্টির সাথে রয়েছে মুসলমানদের করুন ও হৃদয়র্স্পশী এক ইতিহাস। আসুন শুনি তারা কি বলতে চায়।

“তৎকালীন ইউরোপীয় দেশে স্পেনে মুসলিম সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদ এর নেতৃত্বে ৭১১ খ্রীঃ ইসলামি পতাকা উড্ডীন হয় এবং মুসলিম সভ্যতার গোড়পত্তন হয়। সুদীর্ঘ প্রায় আটশ বছর পর্যন্ত সেখানে মুসলমানদের গৌরবময় শাসন বহাল থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে আস্তে আস্তে মুসলিম সম্রাজ্যে ঘুনে ধরতে শুরু করে এবং মুসলিম শাসকরাও ভোগ বিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়ে ইসলাম থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। ফলে মুসলিম দেশগুলোও ধীরে ধীরে মুসলমানদরে হাত ছাড়া হয়ে খ্রীস্টানদের দখলে যেতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আসে স্পেনের পালা। মুসলিম শাসনে নেমে আসে পরাজয়ের কাল ছায়া। খ্রীস্টান জগত গ্রাস করে নেয় স্পেনের বিজয় পতাকা। এক পর্যায়ে মুসলিম নিধনের লক্ষ্যে খ্রীস্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড বিয়ে করে পর্তুগীজ রানী ইসাবেলাকে। যার ফলে মুসলিম বিরোধী দুই বৃহৎ খ্রীস্টান শক্তি সম্মিলিত শক্তি রুপে আত্নপ্রকাশ করে। রানী ইসাবেলা ও রাজা ফার্ডিন্যান্ড খুঁজতে থাকে স্পেন দখলের মোক্ষম সুযোগ। পরবর্তীতে মুসলিম সভ্যতার জ্ঞান বিজ্ঞানের কেন্দ্রস্থল গ্রানাডার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। একপর্যায়ে মুসলমানদের অসতর্কতার সুযোগে খ্রীস্টান বাহিনী ঘিরে ফেলে গ্রানাডার তিন দিক । এক মাত্র মহাসমুদ্রই বাকী থাকে মুসলমানদের বাচার পথ। অবরুদ্ধ মুসলমানগন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এদিক সেদিক ছুটতে থাকে। মুসলমানদের এই অসহায় অবস্থায় রাজা ফার্ডিন্যান্ড প্রতারনার আশ্রয় নেন। তিনি দেশব্যাপী ঘোষনা করে দেন - "যারা অস্র ত্যাক করে মসজিদগুলোতে আশ্রয় নেবে এবং সমুদ্র পাড়ে রক্ষিত নৌযানগুলোতে আরোহন করবে তাদেরকে সবরকমের নিরাপত্তা দেওয় হবে"। এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে মুসলমানগন যেন আশার আল খুজে পায়। সরল মনে বিশ্বাস করে মুসলমানগন মসজিদ ও নৌযানগুলোতে আশ্রয় গ্রহন করে। কিন্তু ইতিহাসের জঘন্য নরপিশাচ প্রতানক রাজা ফার্ডিন্যন্ডি তালা লাগিয়ে দেয় মসজিদগুলোতে এবং মাঝ দরিয়ায় ভাসিয়ে দেয় নৌযানগুলোকে। এরপর বিশ্ব মানবতাকে পদদলিত করে ঐ মানুষ নামের পশু ফার্ডিন্যন্ডি আগুন লাগিয়ে দেয় মসজিদগুলোর চার পাশে এবং মধ্যসমুদ্রে ডুবিয়ে দেয় নৌযানগুলোকে। ফলে অগ্নিদগ্ধ ও পানিতে হাবুডুবু খাওয়া লক্ষ লক্ষ নারি পুরুষ আর নিষ্পাপ শিশুর আর্ত চিৎকারে ভারি হয়ে উঠে স্পেনের আকাশ বাতাশ।মুহূর্তের মধ্যে নির্মমভাবে নিঃশেষ হয়ে যায় সাত লক্ষ মুসলমানের তাজা প্রান। আর এরি মধ্যে ইতি ঘটে স্পেনের আটশ বছরের মুসলিম শাসনের, আর পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হয় মনবতা লঙ্ঘনের নির্মম অধ্যায়।
যেদিন এই মর্মন্তিক হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছিল সেদিন ছিল ১৪৯২ খ্রীস্টাব্দের ১লা এপ্রিল। তখন থেকে মুসলমানদেরকে ধোঁকা দেওয়ার সেই নিষ্ঠুর ইতিহাস স্মরনার্থে খ্রীস্টানরা প্রতি বছর এপ্রিল ফুল পালন করে আসছে।”

ঘটনাটা অবশ্যই দুঃখজনক কিন্তু কতটা সত্য টা নিয়ে সন্দেহ আছে। আমি নিজেও এতদিন বিশ্বাস করতাম ব্যাপারটা। কিন্তু আমার পরিচিত একজন বললও এটা নাকি একটা বানোয়াট সংবাদ। তাই একটু অন্তরজাল ঘাটাঘাটি করে দেখলাম এই সংবাদ টার সত্যতার বেপারে কিছু নাই।

এবার দেখি স্প্যানিস ইসলামের আসল ইতিহাস। ইউরোপে মুসলমান আগ্রাসন শুরু হয় ৭১১ সাল থেকে। বিষেশ করে আইবেরিয়ান পেনিনসুলা (আজকের স্পেন এবং পর্তুগাল) এরিয়ায় তারা দখল করতে থাকে। ৭১১ সালের ৩০ এপ্রিল মুসলিম যোদ্ধা তারিক বিন জায়ীদ প্রথম জিব্রাল্টার প্রনালীতে উপস্থিত হন। সে যুগের ইউরোপ ছিল অসংখ্য ছোট স্টেট- এ টুকরা টুকরা হওয়া। তেমন কোন বড় রাজ্যের অস্তিত্ব এই পেনিন্সুলায় ছিলনা। তারা ছিল নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ব্যস্ত। গ্রীক ও রোমান সাম্রাজ্যের ধ্বংশের পর ইউরোপে একধরনের অন্ধকার অবস্থা বিরাজ করছিল। অন্যদিকে সামরিক শক্তিতে আরবদের উত্থানের যুগ। এই অবস্থায় মুসলিমরা আক্রমণ করে আইবেরিয়ান পেনিনসুলায়। এই অঞ্চলকে তারা বলত আল আন্দালুস। তারা দখল করে নেয় আইবেরিয়ার একাংশ। এসময়ে তারা চার্চ ও সিনাগগ নির্মানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অমুসলিমদের উপর আরোপ করে জিজিয়া কর। তাদের অনেক রকমের যুদ্ধ বিগ্রহের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ইউরোপের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর ক্রমাগত আক্রমণের মোকাবেলা করতে হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকে ত্রয়োদশ শতক পর্যন্ত। তখন ইউরোপ আবার জেগে উঠতে শুরু করেছে। ইউরোপের রেনেসাঁর যুগ। একত্র হওয়া শুরু করেছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যগুলো। ইউরোপ তখন আবিস্কার আর দেশ জয়ের নেশায় বিভোর। আর অন্যদিকে শুরু হয়েছে মুসলিমদের পতনের যুগ।স্পেনের দুটি ক্ষুদ্র রাজ্যের প্রধান রানী ইসাবেল অফ ক্যাস্টেল এবং ফার্দিনান্দ III অব এরাগন এক হয়ে শুরু করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত আক্রমণ। টানা দশ বছর এই আক্রমন চলে। শেষে বো আবদেল ( যিনি নিজেকে ষোড়শ মোহাম্মদ ঘোষণা করেছিলেন) এর সময়ে ১৪৯২ এর ২ জানুয়ারি তাদের পতন হয়। বো আবদেল তার দলবলসহ আত্মসমর্পন করেন। তার পরেও প্রায় ১৬শ শতক পর্যন্ত মুসলমানদের অবস্থান ছিল গ্রেনাডায়। মুসলমান দখলদারিত্ব মুক্তির এই দিনটি সেখানে প্রতিবছর এখনো পালিত হয়।

তাহলে এখান থেকে কি পেলামঃ
১) গ্রানাডার পতন ঘটেছিলো ১৪৯২-এর ২রা জানুয়ারী। ১লা এপ্রিলে নয়, ৪ মাস আগেই।
২) সম্রাট ফার্দিনান্দ এবং রাণী ইসাবেলার (ইনি কলম্বাসের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন) হাতে শান্তিপূর্ণ আত্মসমর্পণ করেন আলহামরার আমির মুহাম্মদ। আমির নিজে ফার্দিনান্দের কাছে শহরের চাবি হস্তান্তর করেন, এবং তিনি এবং তার লোকবল ফার্দিনান্দের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন।
৩) পুরো ঘটনাটাই ঘটেছিলো শান্তিপূর্ণভাবে - রক্তপাত বা সংঘর্ষের কোন তথ্য নাই।
এসব তথ্য প্রমাণ দেখে ধারনা করা যাচ্ছে যে, এই এপ্রিল ফুল ডে কে নিয়ে যা হচ্ছে সেটা হল অপপ্রচার যেহেতু এর কোন ও তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

সুত্রঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Emirate_of_Granada


এখন একটু দেখে আসি আসলে বিশ্ব বোকা দিবস কি?

ইরানে পার্সি ক্যালেন্ডার অনুসারে নববর্ষের ১৩তম দিনে আনন্দ মজা করা হয়। এই দিন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে ১লা এপ্রিল ও ২রা এপ্রিল সদৃশ্য। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫৮২ সালে ফ্রান্সে নতুন ক্যালেন্ডার চালু করাকে কেন্দ্র করে এপ্রিল ফুল ডে'র সুচনা হয়। ঐ ক্যালেন্ডারে ১লা এপ্রিলের পরিবর্তে ১লা জানুয়ারীকে নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে কিছু লোক তার বিরোধিতা করে। যারা পুরনো ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী ১লা এপ্রিলকেই নববর্ষের ১ম দিন ধরে দিন গণনা করে আসছিল, তাদেরকে প্রতি বছর ১লা এপ্রিলে বোকা উপাধি দেয়া হতো। ফ্রান্সে পয়সন দ্য আভ্রিল(poisson d'avril) পালিত হয় এবং এর সাথে সম্পর্ক আছে মাছের। এপ্রিলের শুরুর দিকে ডিম ফুটে মাছের বাচ্চা বের হয়। এই শিশু মাছগুলোকে সহজে বোকা বানিয়ে ধরা যায়। সেজন্য তারা ১ এপ্রিল পালন করে পয়সন দ্য এভ্রিল অর্থাৎ এপ্রিলের মাছ। সে দিন বাচ্চারা অন্য বাচ্চাদের পিঠে কাগজের মাছ ঝুলিয়ে দেয় তাদের অজান্তে। যখন অন্যরা দেখে তখন বলে ওঠে পয়সন দ্য আভ্রিল বলে চিৎকার করে। কবি চসারের ক্যান্টারবারি টেইলস(১৩৯২) বইয়ের নানস প্রিস্টস টেইল এ এই দিনের কথা খুজে পাওয়া যায়।

সুত্রঃ http://www.britannica.com/EBchecked/topic/30821/April-Fools-Day

মন্তব্বঃ মজার বিষয় হল, হয়তো কেও একজন এই ১ লা এপ্রিল কে মাথায় রেখেই এমনটা করেছিল সবাইকে বোকা বানানোর জন্য। আমরা একটা জিনিস জানি যে একটা মিথ্যা কে বারবার প্রচার করলে একসময় সেটা সত্য হয়ে যায় মানুষের কাছে। হয়তো এমন ই কিছু হয়েছে। তারপর ও যাই হোক না কেন, কাওকে বোকা বানানো তাকে অপমান করার সামিল। তাই খুব খেয়াল।

৩১/০৩/২০১৩

মানুষ বনাম মহা মানুষ।

একবার কাম্পাস এ খুব ঝড় এ আটকা পরেছিলাম। অনেকক্ষণ আটকা থাকার পর যখন ঝড় থামল তখন রবীন্দ্র ভবন থেকে বের হয়ে যখন ইবলিশ চত্বরে গেলাম দেখলাম কতগুলো বাচ্চা ছেলে একটা কাল মত কি যেন নিয়ে খুব মজা করে ফুটবল খেলছে। একটু ভালো করে তাকিয়ে আমার কেমন যেন অস্বস্তি লাগতে লাগলো। দেখি ওই কাল বস্তুটা আর কিছু না একটা কাকের বাচ্চা। তখন ও মরেনি। ঝরে মনে হয় গাছ দিয়া পইরা গেছে। তখন আমার মাথায় একটা প্রশ্ন এসেছিল এই বাচ্চা গুলো বড় হয়ে কি হবে। আজ মনে হয় আমি আমার উত্তর পাইয়া গেছি।

মানুষের মনুষ্যত্ব বোধ দিন দিন পশুত্তের পর্যায় এ চলে যাচ্ছে। মনুষ্যত্ব এখন সংখালঘু। আমি মেনে নিলাম যারা এই মানুষটাকে (পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গির) মারল তারা মহা মানুষ, কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম আশে পাশে মানুষ খুব কম ই ছিল। তাই দুই তিনজন তুচ্ছ মানুষকে এগিয়ে আসতে হোলও এই তুচ্ছ মানুষটাকে ওহ সরি পুলিশ টাকে বাচাতে। পুলিশ কে তোঁ আমরা মানুষ ধরি না ভুলে গেছি। ওরা তোঁ শুধুই পুলিশ। আমি বুঝি আমার রক্ষা কর্তা আমার বাবা। আর আমাদের রক্ষাকর্তা পুলিশ।


আর সাংবাদিক বা ফটোগ্রাফার দের কাছে মনে হয় একটা মানুশকে বাঁচানোর চাইতে তার শেষ মুহূর্তের ছবি তোলা অনেক মূল্যবান।

আমার এই লেখা দেখে একদল ঝাঁপিয়ে পরবে জানি। বলবে আমি আওয়ামীলীগ এর দালাল। আমি পুলিশ যখন পাখির মত ঝাকে ঝাকে মানুষ মারে তখন কিছু বলি না। তাদেরকে বলছি সকল প্রকার মারামারি কেই আমার অর্থহীন পাশবিকতা মনে হয়। কিন্তু আমার কাছে বাবা কত্রিক সন্তান মারা আর সন্তান কত্রিক বাবাকে মারা কখনোই এক পাল্লায় পরবে না। দুঃখিত।

আমার সস্রদ্ধ সম্মান জানাই সংখালঘু ওই মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ ঝর্না বেগম ও নাম না জানা ওই বাকি কয়জনকে যারা মানুষের পর্যায় থেকে নেমে এসে উদ্ধার করেছ ওই অসহায় মানুষ সরি পুলিশ টাকে।। তোমরা আছ বলে এখনো আমরা মাথা উচু করে বলি আমারা মানুষ, সৃষ্টির সেরা জীব।

জয় বাংলা। জয় জনতা।

০২/০৪/২০১৩

লড়াই লড়াই লড়াই চাই। লড়াই করে বাচতে চাই।

প্রতিটা সমাজে কিছু মানুষ থাকে যারা প্রতিবাদি না। তারা সকল পরিস্থিতিতে আপোষ করে বেচে থাকে। এবং দুঃখের বিষয় এই সংখ্যাটা সবচাইতে বেশি। তবে একটা বিষয় কিন্তু মনে রাখতে হবে যখন কোন একটা অন্যায় হবে তখন যদি কেও প্রতিবাদ না করে নিরব থাকে তবে সে ওই অন্যায় টাকে সমর্থন করার পাপের ভাগিদার হইয়া যায়। আমরা আমাদের প্রাত্তাহিক জীবনে এমন পাপের বোঝা প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে যাচ্ছি। হেফাজতে ইসলাম কে আমার অপছন্দ করার বেশ কিছু কারন আছে।



যে ব্যাপার টা নিয়া আজ এরা আন্দোলন করছে ধরমানুভুতিতে আঘাত। হা ধরমানুভুতিতে আমার ও আঘাত লেগেছে। কিন্তু আমি যখন দেখেছি আমার দেশ সম্পাদক মাহবুবার রাহমান এই হেফাজতে ইসলাম এর সাথে বৈঠক করে, যখন দেখি এই এই হেফাজতে ইসলাম আমাদের পবিত্র মক্কা শরীফ এর অবমাননা কারী সংবাদ পত্র কে নিয়ে কোনও বিরধিতা করে না( মক্কা শরীফ এর গিলাফ পরিবর্তনের ছবিকে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য ইমাম পরিষদের মানব বন্ধন এর ছবি বলে চালানোর ধৃষ্টতা দেখানও), যখন দেখি এরা মসজিদে নামাজের কারপেট পোড়ানর প্রতিবাদ করে না। বরং প্রতিবাদ করে কিছু নাস্তিক ব্লগার আর ধর্ম অবমাননা করা নিয়ে যেঁসব ব্লগ হয়তো হাজার খানেক মানুষ ও পরে নি। কিন্তু যেঁসব ধর্মীয় অবমাননা ১৬ কোটি মানুষ আধুনিক মিডিয়া এর কল্যাণে চাক্ষুস দেখেছে তার কোনও প্রতিবাদ করে না তখন আমার বুঝতে এততুকু দেরি হয় না এরা কি জন্য এগুলা করছে। কারা আছে তাদের পেছনে। যারা নির্দ্বিধায় লাখ লাখ মানুস্কে নাস্তিক বলে দিতে পারে তাদের আস্তিকতা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তাছারাও আমি যখন দেখি ১৩ দফা দাবির মাধ্যমে তারা আমাদের সেই মধ্যযুগে ফেরত নিয়ে যেতে চায় তখন ভয় হয়। আমি চাই না আমার দেশটাকে তালেবান রাষ্ট্রে পরিনত হতে দেখতে। আমি আমার অবস্থান থেকে যতোটা পারি লড়াই করে যাব।

০৮/০৪/২০১৩

জয় বাংলা। জয় জাগরিত নারী সমাজ।

প্রথম আলো এর মাধ্যমে জানতে পারলাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দ্বিতীয় নারী ছত্রীসেনা (প্যারাট্রুপার) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন মেজর নুসরত নুর আল চৌধুরী।

স্যালুট তোমাকে মেজর নুসরত নুর আল চৌধুরী। আজ তোমাদের মত অসম সাহসী নারীরা প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে যাচ্ছে তোমরা কোনও অংশে কম না পুরুষের চাইতে। কিন্তু ভয় হয় যখন দেখি একটা শক্তি চেষ্টা করছে তোমাদের কে আবারও চারদেয়ালে বন্দী করে রাখতে। তোমাদের কে ওরা শিক্ষা গ্রহন করতে দেবে না, চাকরি করতে দেবে না। আবার তোমরা হবে দাসী। সত্যি বলছি লজ্জা লাগে তখন। আমাদের এই সপ্নের বাংলাদেশ কে ওরা মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

প্রিতিলতার এই দেশে নারীকে দমিয়ে রাখতে পারবে না কোনও শক্তি। নারীরা তাদের অবস্থান বজায় রাখবে। বাংলার নারীরা সবসময় সকল আন্দোলনে জোর অবদান রেখেছে, সে ৫২,৬৯,৭১,৯০,৯২ যে আন্দোলন ই হোক। আজ সেই তোমাদের উপরে কালো মেঘ ছেয়ে এসেছে। আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। বুঝিয়ে দাও তোমরা ছিলে, আছ, থাকবে। আমরা আছি তোমাদের পাশে তোমাদের ভাই হয়ে, তোমাদের ছেলে হয়ে অথবা তোমাদের বাবা হয়ে। জয় তোমাদের হবেই।

জয় বাংলা। জয় জাগরিত নারী সমাজ।

০৯/০৪/২০১৩

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি।

এই কয়দিন বাবার চিকিৎসার জন্য কোলকাতা থাকার কারনে সাভার এর ভয়াবহতা আসলে কিছুই বুঝতে পারিনি। আম্মা বা ভাইয়ার কাছে মুঠোফোনে পাওয়া কিছু সংবাদ ই ছিল আমার জানার পরিধি। ওখানকার সংবাদপত্রে কেন জানিনা ব্যাপারটা ঠিক সারা ফেলতে পারেনি। তাদের সংবাদ এর চাইতে বরং আমার মা মুঠোফোনে আমাকে বেশি সংবাদ দিত। আর টিভি চ্যানেল গুলোর কথা নাই বা বলি। সারদা গ্রুপ ওদের অনেক টাকা মেরে দিয়েছে। সেখানে এই তিন চারশ মানুষের মৃত্যু কোন ব্যাপার ই না। তার চাইতে পারভেজ মসাররফ কে কিভাবে গ্রেফতার করল সেটা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করা বরং টিআরপি অনেক বারিয়ে দেয় ওদের চ্যানেল এর।

আজ দেশে ফিরে টিভি তে সাভার এর বর্তমান পরিস্থিতি দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। চেষ্টা ও করিনি। আর কত লাশ দেখতে হবে মোদের। আর কত মানুষ মাড়া গেলে আমাদের জঘন্যতম রাজনীতিবিদদের বোধোদয় হবে। তারা বন্ধ করবে তাদের এই অরাজনৈতিক রাজনীতি। কবে শেষ হবে এই কাদা ছরাছরির রাজনীতি। যেদিন জনতা এদের মুখে গু ছুরে মারবে সেদিন হয়তো এরা আমাদের রেহায় দিতে। কিন্তু কবে আমরা পারব ওদের মুখে গু ছুরে মারতে? একেবারে টাটকা কাঁচা গু। একটা মানুষ কতটা বিকার গ্রস্থ হলে বলতে পারে যে কিছু মানুষ ঝাকি দিয়ে একটা নয় তলা ভবন ধসিয়ে দিতে পারে? কতটা ঠিক কতটা বেহায়া হলে অবলীলায় এমন একটা কথা বলা যায়। আবার আরেকটা দল বলছে এটা নাকি পরিকল্পিত গণহত্যা। তা পরিকল্পনাটা কে করেছিল? আপনাদের কাছে কি পরিকল্পনার নীলনকশা টা আছে? থাকলে প্রকাশ করেন।

তবে এই সাভার আমাকে কাদতে বাধ্য যেমন করেছে সেই সাথে সাথে গর্বিত করেছে। আমি অবাক হয়ে দেখছি কিভাবে সবাই ছোটাছুটি করছে মানুষগুলোকে বাঁচানোর জন্যে। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ। একটা মানুষকেও তারা মরতে দিতে চায় না। সেই সাথে দেখছি ঝাপিয়ে পড়া একঝাক ডাক্তার কে। রাতদিন অক্লান্ত পরিস্রম করে যাচ্ছে। আমরা যে এখনও মানুষ আছি সেটা টিভি খুললেই দেখতে পাচ্ছি। বিনম্র শ্রদ্ধা তাদের সবার প্রতি। একটা গান খুব মনে পরছে। গোবিন্দ হালদার এর লেখা আর আপেল মাহমুদ এর গাওয়া সেই অসাধারণ গানটি-

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি
মোরা একটি সুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি।।

যে মাটির চির মমতা আমার অঙ্গে মাখা
যার নদী জলে ফুলে ফুলে মোর স্বপ্ন আঁকা।
যে নদীর নীল অম্বরে মোর মেলছে পাখা
সারাটি জীবন সে মাটির গানে অস্ত্র ধরি।।

নতুন একটি কবিতা লিখতে যুদ্ধ করি―
মোরা নতুন একটি গানের জন্য যুদ্ধ করি
মোরা একখানা ভালো ছবির জন্য যুদ্ধ করি
মোরা সারা বিশ্বের শান্তি বাঁচাতে আজকে লড়ি।।
যে নারীর মধু প্রেমেতে আমার রক্ত দোলে
যে শিশুর কান্না হাসিতে আমার বিশ্ব ভোলে
যে গৃহ কপোত সুখ স্বর্গের দুয়ার খুঁজে
সেই শান্তির শিবির বাঁচাতে শপথ করি।।

২৮/০৪/২০১৩

হায়রে কি শ্রদ্ধা!

তিনি (গোলাম আযম) যে অপরাধ করেছেন, তা মৃত্যুদণ্ডতুল্য। কিন্তু তাঁর বয়স বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।"

বাহ কি শ্রদ্ধা। আমার যে বোন টি মাত্র বারো বছর বয়সে ধর্ষিত হয়ছিল তার প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই। আমার যে অন্তঃসত্ত্বা মা কে বেয়োনেটের খোঁচায় প্রান দিতে হয়েছিল তার প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই। আমার যে মা তার সদ্য কৈশোর পেরোনো ছেলেটিকে নিজের চোখের সামনে নিরমম নির্যাতনে মা মা করে কাদতে কাদতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছিল তার চোখের জলের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই। আমার যে বাবা নিজের চোখের সামনে নিজের মেয়ে কে ধর্ষিত হতে দেখেছিল, তার অসহায় আর্তনাদের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই। আমার যে ভাই টি তার পুরুষাঙ্গের একটু খানি চামড়া বেশি থাকার অপরাধে নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঢলে পরেছিল তার প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই। আমার যে বোনটি সিঁথিতে একটু খানি সিদুর থাকার অপরাধে ধর্ষিত হয়েছিল তার প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই।

আজ নিজেকে আস্তাকুরে পরে থাকা পশুর মতো মনে হচ্ছে। এটা আমার পতাকার সাথে বেঈমানি। এ আমার মানচিত্রের সাথে বেঈমানি। এ আমার বাঙ্গালিত্তের সাথে বেঈমানি। গোটাকয়েক মানুষ আমাদের আজ পুরুষত্বহীন একটা জাতিতে পরিনত করে দিলো। চারিদিকে এখন শুধুই ঝিঝি পোকার আর্তনাদ।

১৫.০৭.২০১৩

ভালো থাকিস বন্ধু।

সেই ছোট ছোট পা ফেলে বুক ভর্তি একরাশ ভয় নিয়ে প্রথম যেদিন স্কুলে গিয়েছিলাম খুব করে কেঁদেছিলাম। এতগুলো অজানা অচেনা ছেলে মেয়ের মাঝে নিজেকে কেমন যেন অসহায় লাগছিল। কিন্তু অজানা অচেনা ছেলে মেয়ে গুলোই হয়তো আমার জীবনের সবচাইতে ভালো বন্ধু হতে পারতো। কিন্তু হয় নি। কারন বন্ধুত্ব বুঝে ওঠার আগেই বাবার ট্র্যান্সফার।

নতুন জায়গা নতুন স্কুল। আবারও সেই একি ভয়। কারন তখনো আমি সেই ছোটটিই আছি। এবার ও যখন মা ক্লাসে দিয়ে বেরিয়ে গেলো ফুঁপিয়ে খুব কেঁদেছি। কারন আবারও সেই অনেক গুলো ছেলে মেয়ের মধ্যে আমাকে একা রেখে চলে গেছে মা। এই ছেলে মেয়ে গুলোই হয়তো আমার খুব ভালো বন্ধু হতে পারতো। কিন্তু হয় নি। কারন ঐদিনই আমার ওই স্কুলে শেষ দিন ছিল। তারপর আর আমাকে মেরেও ওই স্কুলে পাঠাতে পারেনি মা।পারেনি বাবার আদর ও। কারন তেমন কিছু না। ক্লাস টিচার আমাকে বলেছিল " এই তোর নাম কি"? ঐটুকুন আমার আত্মসম্মানবোধে চরম আঘাত হেনেছিল ওই "তোর" শব্দটি। ছেঁড়ে দিলাম স্কুল। ওই ছোট ছোট ছেলে মেয়ে গুলোর বন্ধু হয়ে ওঠা আর হল না।

আবার নতুন স্কুল। আবার নতুন নতুন ছেলে মেয়ে। এবার ভয় টা একটু কমে গেছে। দিরিম দিরিম না হয়ে দুরু দুরু বুক এখন আমার। যাই হোক এখানে এসে আমি প্রথম বন্ধুত্তের স্বাদ পেলাম। বুঝতে পারলাম এই জিনিস টা একেবারে খারাপ না। বেশ কিছু বন্ধু হল, যার কিছু হারিয়ে ফেলেছি কালের ঘূর্ণনে। কিছু এখনো জরিয়ে রেখেছে অক্টোপাসের মতো।

এই তাই করতে করতে বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। ওই ছোট্ট আমাকে নিতে হল যুদ্ধের প্রস্তুতি। কারন ততদিনে আমি ওই কিশালয়, বেবি, কেজি নামক শ্রেণী গুলো টপকে ফেলেছি। এখন জিলা স্কুল এ ভর্তি হতে হবে। সে কি কসরত। আমাকে পড়াতে পড়াতে মা এর নাভিশ্বাস। এবং অবশেষে যুদ্ধজয়। ছিনিয়ে আনলাম একটা বেঞ্চে বসার অধিকার, যা সিংহাসন এর চাইতে কোনও অংশে কম না। এবং সাথে সাথে কিছু নক্ষত্রের পতন। যাহারা বিজয়ি হতে পারে নি, তাদের কে ধিরে ধিরে ভুলে গেলাম। পরাজিতদের মনে রাখে না কেও। আমি ও রাখিনি।

নতুন স্কুল কিন্তু একটু ও ভয় নেই। কারন সাথে আছে কিছু পরিচিত বন্ধু।কিছু ধিরে ধিরে অনেকে দূরে সরে গেলো, আবার অনেক নতুন বন্ধু হোলও। এভাবেই চলতে থাকলো দিন। কখনও মারামারি, কখনও আড়ি, মন কষাকষি তারপর আবার হাসাহাসি। টিফিন ভাগ করে খাওয়া, ক্লাসে পাশের জন কে কলমের খোঁচা মেরে কিছুই জানিনা এমন ভাব করে বসে থাকা কি না করেছি। এভাবে আস্তে আস্তে বড় হতে থাকলাম আর বন্ধুর সংখ্যা যোজন বিয়োজন হতে থাকলো সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে। এভাবেই একদিন দিয়ে দিলাম সেই মহা মূল্যবান কাগজটি অর্জনের পরীক্ষা। এবং বেচে বর্তে নিয়েও নিলাম নিজের করে।

ভর্তি হলাম কলেজে। আবার এলো নতুন বন্ধুর জোয়ার। সাথে ভাটার টানে হারিয়েও গেলো কিছু বন্ধু। কিন্তু এখনো যেগুলান টিকে আছে সেগুলো মনে হয় কখনোই ছাড়বে না। জালিয়েই মারবে। এই সময়টা যেন কীভাবে কেটে গেলো। খুব তারাতারি যেন পাট চুকিয়ে ফেলতে হল কলেজ জীবনের। তবে এই সময়ের মধ্যেই স্মৃতির অ্যালবাম ভরে ফেললাম অসংখ্য ভালো লাগার ছবি দিয়ে।

এর আগে করেছি শহর জয়। এবার করতে হবে দেশ জয়। তাই চাপ টা ও একটু বেশি। কীভাবে কীভাবে যেন জয় করে ফেললাম। চান্স পেয়ে গেলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ যেন সোনার হরিন হাতে পেয়ে গেলাম। এখানে এসে শিখলাম বাস্তবতা। প্রচুর মানুষের সাথে মিশলাম। ব্যাগ ভরে ফেললাম গাদাগাদা অভিজ্ঞতা দিয়ে। পেলাম কিছু খুব ভালো বন্ধু, কিছু মুখোশ পড়া বন্ধু। তবে জীবনের এই সময়কালটুকু কখনোই ভোলার নয়।

আজ বন্ধু দিবস। আজ আমি আমার প্রতিটা বন্ধু কে স্মরন করতে চাই। একদিনের জন্য ও যে বন্ধু ছিলি তাকেও আজ বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা জানতে চাই। অনেকের মুখ ই মনে করতে পারছি না। কিন্তু মনের একেবারে গভীর কোন থেকে প্রত্যেকটি বন্ধুকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তোরা ছিলি বলে জীবনটা আজ এত সুন্দর। তোরা আছিস বলে এখনো ভালো আছি। ভালো থাকিস সবাই। খুব ভালো থাকিস।

০৪.০৮.২০১৩

একটি ছোট গল্প ও এক টুকরো ইতিহাস!

১. সিরাজ সাহেব বেশ ভদ্রলোক। কারো আগে পিছে থাকেন না কখনও। নিজের পরিবার ছাড়া কারো সাথে মেশেন না। একটা ছোট গলির ভেতর থাকেন। যান্ত্রিক শহরে নিজ পরিবার কে নিয়ে বেশ ভালোই আছেন। হঠাৎ করে তার এলাকায় এক সন্ত্রাসীর উদ্ভব হোলও। একদিন সিরাজ সাহেব অফিস থেকে বাসায় ফিরছেন। বাসার কাছেই আসতে দেখেন তার প্রতিবেশি কামাল সাহেব কে সেই সন্ত্রাসি (ধরে নিন ছক্কা হাফিজ) ও তার সাঙ্গপাঙ্গ রা চাপাতি দিয়ে কোপাচ্ছে। সিরাজ সাহেব দেখেও না দেখার ভান করে চলে এলো। দুদিন পড়ে আবার অফিস থেকে আসার সময় দেখেন ছক্কা হাফিজ ও তার সাঙ্গপাঙ্গ রা এবার প্রতিবেশি জামান সাহেব এর মাথায় গুলি করে ফেলে রেখে গেছে রাস্তায়। কিন্তু সিরাজ সাহেব এমন ভাবে পাশ কাটিয়ে চলে এলেন যেন কিছুই হয় নি।
সপ্তাখানেক পর সুক্রবার সকালে সিরাজ সাহেব বাজার করে ফিরছেন। গলির ভিতর ঢুকে দ্যাখেন চৌধুরী সাহেব মাটিতে গরাগরি খাচ্ছে আর ছক্কা হাফিজ আর তার সাঙ্গপাঙ্গ রা বাশ দিয়ে পেটাচ্ছে। সিরাজ সাহেব কে দেখে চৌধুরী সাহেব অনেক অনুরোধ করলেন তাকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু এবার ও সিরাজ সাহেব কিছুই দেখেন নি এই ভাব করে চলে গেলেন। এভাবেই চলতে থাকলো। মাস দুয়েক এর মধ্যে সিরাজ সাহেব এর এলাকা খালি হয়ে গেলো। এবার একদিন অফিস থেকে ফিরে আসার সময় সিরাজ সাহেব ছক্কা হাফিজ ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এর হামলার শিকার হলেন। অনেক অনুনয় বিনয় করলেন। অনেক কান্নাকাটি করলেন কাজ হোলও না। সাহায্যের জন্য আসেপাশের প্রতিবেশিদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে অনেক চিল্লালেন। কিন্তু কেও এলো না, আসবে কীভাবে কেও তো নেই। ধিরে ধিরে মৃত্যু আছড়ে পড়লো সিরাজ সাহেব এর উপর।
(প্রতিটি চরিত্র কাল্পনিক)

২. পলাশীর আম্রকানন। ১৭৫৭ সাল। চারিদিকে লাখ লাখ দর্শক। তিনহাজার সৈন্য নিয়ে লর্ড ক্লাইভ অস্তমিত করে দিলেন বাংলার স্বাধীনতার সূর্য। শুনেছি খুব নাকি ভয় পেয়েছিলেন লর্ড ক্লাইভ। তিনি নাকি বলেছিলেন আশেপাশে যে পরিমান দর্শক ছিল সবাই যদি একটা করেও পাথর ছুরে মারত তাহলে নাকি তার সেনাবাহিনী পাথরের নিচে চাপা পড়ে যেত। কিন্তু কেও পাথর ছুরে মারে নি।

২৩.০৯.২০১৩

Monday, January 6, 2014

কথামালা ০১।

২০১৩  আমার জীবনের খুব মূল্যবান একটা বছর। নিজেকে অন্নভাবে চিনতে শিখেছি এই বছরে। বলা যায় নিজেকে আবিস্কার করেছি। নিজেকে খুজে পেয়েছি। সাথে সাথে দেখেছি মানুষের ভেতর, বাহির, মুখোশ, মুখ, মস্তিস্ক, অন্তর। দেখেছি অস্তি, মজ্জা, হাড়, কঙ্কাল। কাছের মানুষ দূরে ঠেলেছি, দুরের মানুষ কাছে টেনেছি। সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা, দিন, মাস উজার করেছি। রনক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরেছি। নতুন দিনের শুরুতে আবার জেগে উঠেছি। আবার অন্তহীন পাতালে পরেছি টুপ করে। আবার টেনে তুলেছি নিজেকে। একটু একটু করে ভেঙ্গেছি নিজেকে। একটু একটু করে গড়ে তুলেছি আবার। একটা বিশ্বাস বুকে লালন করে চলেছি, জয় আমাদের হবেই। এই স্বপ্ন দেখার সাহস সঞ্চয় করেছি এই ২০১৩ তেই। তবে জানি সময় লাগবে। অপেক্ষা করবো সাথে চলতে থাকবে যুদ্ধের প্রস্তুতি। ৪২ বছর যে শিকড় ছড়িয়েছে যুদ্ধাপরাধী শক্তি তাকে উৎপাটন করতে সময় তো লাগবেই। বাংলাদেশের মানচিত্রের প্রতিটি ইঞ্চির সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জনগণের বীরত্ব, সাহসিকতার মাধ্যমে। আর এই মানচিত্রের প্রতিটি ইঞ্চির মর্যাদা সমুন্নত রাখতে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তা চলবেই।