জাতি হিসেবে আমরা আগাগোঁড়াই একটু বিদেশ ঘেসা। বেড়ার ওপারের ঘাস যেমন একটু বেশিই সবুজ তেমনি আমাদের কাছে বিদেশি সবকিছুই একটু বেশি ভালো। সেই তখন থেকে যখন প্রথম জাহাজ এসে বাংলা স্পর্শ করে তখন থেকেই আমরা একটু বেশিই বিদেশপ্রেমী। আমরা কখনো ওলন্দাজদের ভালবেসেছি তো কখনো ইংরেজদের। কখনো রাশিয়ানদের তো কখনো মার্কিনীদের। কখনো চাইনিজদের তো কখনো ভারতীয়দের। এদের প্রত্যেকে আমাদের ধর্ষণ করেছে ইচ্ছেমত আর আমরা প্রতিনিয়ত গর্বিত হয়েছি আর কলার উচু করে (সার্ট পড়া শুরু করার আগে বুক ফুলিয়ে) ভেবেছি যাহ শালা, বিদেশিদের কাছে ধর্ষিত হওয়ার মজাই আলাদা। আমরা নিয়মিত নিজেদের রং মেখে সাজিয়ে তুলি বিদেশিদের আকর্ষিত করার জন্য।
দেখুন আমি কিন্তু বিদেশ বিরোধী কেও না। আমি ও চাই সংস্কৃতির আধুনিকায়ন। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে সেটাকে আধুনিকায়ন না বলে ভারতায়ন বলাটা মনে হয় খুব বেশি ভুল হবে না। ভারতীয় অমুক ভারতীয় তমুক এর ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নিজস্বতা, স্বকীয়তা। একটি জাতির আচার আচরন, কৃষ্টি কালচার বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় যে সব ফুটে উঠে তার সমষ্টি হল সেই জাতির সংস্কৃতি। একটা জাতির সংস্কৃতি সেই জাতির স্বকীয়তা। সেই স্বকীয়তা যদি হারিয়ে যায় তবে সেই জাতি ও হারিয়ে যাবে। কিন্তু ভারতীয় চ্যানেল এর আগ্রাসন যে আমাদের সমাজে বর্তমানে কি অবস্থায় আছে সেটা আমি আপনাকে একটি ভারতীয় চানেল এ বেশ কিছুদিন আগে প্রচারিত সিরিয়াল এর নাম দিয়েই বুঝাতে পাড়ি। সেটা হল "কাহানি ঘার ঘার কি"। উদ্ভট ভাবে মেকআপ করে কিছু মহিলা গহনার ভারে বেকিয়ে পড়ে দিনরাত ঝগড়া করে যাচ্ছে তাদের শাশুড়ি অথবা বউ এর সাথে এই চ্যানেলগুলোতে। এদের ডেইলি সোপ মানে প্রতিদিন গোসল করার সাবান দেখলে মনে হয় ভারতে প্রতি বাসায় একটা করে বিউটি পার্লার আছে। আমাদের মোড়কের চাকচিক্য দেখে পণ্য কেনার প্রবনতা একটু বেশি তাই এদের প্রতি আমরা একটু বেশিই আকৃষ্ট হয়ে পরছি দিন দিন। ভারতীয় চ্যানেল এর ভিড়ে রীতিমত খাবি খাচ্ছে আমাদের চ্যানেলগুলো। তবে বর্তমানে টক-ঝাল-মিষ্টি শো এর মাধ্যমে চ্যানেল গুলো কিছু কামাই করছে কারন আমরা বেশ ঝগড়া প্রিয় জাতি। কাওকে ঝগড়া করতে দেখলে আমরা বেশ আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করি। কিন্তু ঝগড়া করে কতদিন? তবে এই ভারতীয় চ্যানেল এর আগ্রাসন এর ক্ষেত্রে আমি বেশি দায়ী মনে করি আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলোকে। নিম্ন মানের অনুষ্ঠান প্রচার করে তারা যদি মনে করে দর্শক ধরে রাখবে তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে।
বেশ কয়েকবছর ধরেই দেখছি দেবদাস পাঞ্জাবি, পার্বতী শাড়ি, ধুম মাচালে প্যান্ট এইরকম পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে ওঠে। কেন হয়? কারন আমরা এধরনের নামের পোশাক খুব পছন্দ করি। মার মার কাট কাট বিক্রি হয় এধরনের পোশাক। আমি বলছি না সাকিব খান পাঞ্জাবি বা মুনমুন শাড়ি হতে হবে। কিন্তু কেন এমন উদ্ভট নামে পোশাক বিক্রি করবো। পাঞ্জাবি কি পাঞ্জাবি নামে বিক্রি হয় না?
কিছুদিন আগে দেখলাম ডরেমন নামক কার্টুনটির সম্প্রচার বন্ধ করার জন্য মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বসিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে কার্টুনটির সম্প্রচার। কিন্তু তার বিনিময়ে আমরা আমাদের সোনামণিদের কি দিতে পেরেছি। একরাশ হতাশা ছাড়া তো আমি কিছু দেখি না। আগুন দিয়ে ঘর পুরতে পারে বলে ঘরে আগুন না জ্বালানর পক্ষপাতি আমি না। বরং সাবধানে আগুন জ্বালানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
দেখুন মুক্ত বাজার অর্থনীতির যুগে আপনি যদি ভালো পণ্য উৎপাদন না করতে পারেন তবে আপনার পণ্য কেও ছুয়েও দেখবে না। বাজারে টিকে থাকতে হলে আপনাকে ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করতে হবে। জনগনের নিশ্চয়ই ঠ্যাকা পড়েনি যে টাকা দিয়ে নিম্ন মানের পণ্য কিনবে। তেমনি ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন ঠেকাতে হলে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে যথার্থ ভাবে তুলে ধরতে হবে। তাই ভারতায়ন ঠেকাতে হলে আমাদের যেটা করতে হবে সেটা হল ভারতের চাইতে উন্নতমানের অনুষ্ঠান তৈরি করতে হবে। এটা কি খুব কঠিন কিছু? আমার তো মনে হয় না।
শেষ করতে চাই রবীন্দ্রনাথ কে দিয়ে। গান্ধী যখন অসহযোগ আন্দোলন করছিল তখন সে চাইতো রবিবাবু তার আন্দোলনে শরিক হোক। কিন্তু কোনভাবেই কবিগুরুকে রাজি করাতে পারেন নি। রবিবাবুর একটাই কথা ছিল, যে আন্দোলনের কারনে দেশের গরিব মানুষ কে বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে সেই আন্দোলনে সে নেই। কারন রবিবাবু খুব ভালো করেই জানতেন নিজেদের সীমাবদ্ধতা। তাই বলছি সংস্কৃতির ভারতায়ন ঠেকাতে ভারতীয় টিভি চ্যানেল বর্জন কোণ সমাধান না। প্রয়োজন নিজেদের টিভি চ্যানেলের পরিমার্জন। আমরা চাইলে পাড়ি না এমন কিছু আছে নাকি? খালি চাইতে একটু সময় বেশি নেই। যে জাতি নিজের ভাষায় কথা বলার জন্য জীবন দিতে পারে সেই জাতি নিজের সংস্কৃতিকেও টিকিয়ে রাখবে সন্দেহ নেই। কিন্তু অতিরিক্ত অসুস্থ হয়ে পড়ার আগেই চিকিৎসা করানো বুদ্ধিমানের কাজ। হাসপাতালের আইসিইউ এর খরচ একটু বেশিই। অতিরিক্ত অসুস্থ হয়ে পরলে রোগমুক্তির মূল্য একটু বেশিই দিতে হবে। তাই আসুন আমরা সবাই খোদার কাছে দোয়া করি "আমার পরিবার যেন থাকে ভারতীয় চ্যানেলের মোহমুক্ত"।
দেখুন আমি কিন্তু বিদেশ বিরোধী কেও না। আমি ও চাই সংস্কৃতির আধুনিকায়ন। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে সেটাকে আধুনিকায়ন না বলে ভারতায়ন বলাটা মনে হয় খুব বেশি ভুল হবে না। ভারতীয় অমুক ভারতীয় তমুক এর ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নিজস্বতা, স্বকীয়তা। একটি জাতির আচার আচরন, কৃষ্টি কালচার বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় যে সব ফুটে উঠে তার সমষ্টি হল সেই জাতির সংস্কৃতি। একটা জাতির সংস্কৃতি সেই জাতির স্বকীয়তা। সেই স্বকীয়তা যদি হারিয়ে যায় তবে সেই জাতি ও হারিয়ে যাবে। কিন্তু ভারতীয় চ্যানেল এর আগ্রাসন যে আমাদের সমাজে বর্তমানে কি অবস্থায় আছে সেটা আমি আপনাকে একটি ভারতীয় চানেল এ বেশ কিছুদিন আগে প্রচারিত সিরিয়াল এর নাম দিয়েই বুঝাতে পাড়ি। সেটা হল "কাহানি ঘার ঘার কি"। উদ্ভট ভাবে মেকআপ করে কিছু মহিলা গহনার ভারে বেকিয়ে পড়ে দিনরাত ঝগড়া করে যাচ্ছে তাদের শাশুড়ি অথবা বউ এর সাথে এই চ্যানেলগুলোতে। এদের ডেইলি সোপ মানে প্রতিদিন গোসল করার সাবান দেখলে মনে হয় ভারতে প্রতি বাসায় একটা করে বিউটি পার্লার আছে। আমাদের মোড়কের চাকচিক্য দেখে পণ্য কেনার প্রবনতা একটু বেশি তাই এদের প্রতি আমরা একটু বেশিই আকৃষ্ট হয়ে পরছি দিন দিন। ভারতীয় চ্যানেল এর ভিড়ে রীতিমত খাবি খাচ্ছে আমাদের চ্যানেলগুলো। তবে বর্তমানে টক-ঝাল-মিষ্টি শো এর মাধ্যমে চ্যানেল গুলো কিছু কামাই করছে কারন আমরা বেশ ঝগড়া প্রিয় জাতি। কাওকে ঝগড়া করতে দেখলে আমরা বেশ আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করি। কিন্তু ঝগড়া করে কতদিন? তবে এই ভারতীয় চ্যানেল এর আগ্রাসন এর ক্ষেত্রে আমি বেশি দায়ী মনে করি আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলোকে। নিম্ন মানের অনুষ্ঠান প্রচার করে তারা যদি মনে করে দর্শক ধরে রাখবে তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে।
বেশ কয়েকবছর ধরেই দেখছি দেবদাস পাঞ্জাবি, পার্বতী শাড়ি, ধুম মাচালে প্যান্ট এইরকম পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে ওঠে। কেন হয়? কারন আমরা এধরনের নামের পোশাক খুব পছন্দ করি। মার মার কাট কাট বিক্রি হয় এধরনের পোশাক। আমি বলছি না সাকিব খান পাঞ্জাবি বা মুনমুন শাড়ি হতে হবে। কিন্তু কেন এমন উদ্ভট নামে পোশাক বিক্রি করবো। পাঞ্জাবি কি পাঞ্জাবি নামে বিক্রি হয় না?
কিছুদিন আগে দেখলাম ডরেমন নামক কার্টুনটির সম্প্রচার বন্ধ করার জন্য মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বসিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে কার্টুনটির সম্প্রচার। কিন্তু তার বিনিময়ে আমরা আমাদের সোনামণিদের কি দিতে পেরেছি। একরাশ হতাশা ছাড়া তো আমি কিছু দেখি না। আগুন দিয়ে ঘর পুরতে পারে বলে ঘরে আগুন না জ্বালানর পক্ষপাতি আমি না। বরং সাবধানে আগুন জ্বালানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
দেখুন মুক্ত বাজার অর্থনীতির যুগে আপনি যদি ভালো পণ্য উৎপাদন না করতে পারেন তবে আপনার পণ্য কেও ছুয়েও দেখবে না। বাজারে টিকে থাকতে হলে আপনাকে ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করতে হবে। জনগনের নিশ্চয়ই ঠ্যাকা পড়েনি যে টাকা দিয়ে নিম্ন মানের পণ্য কিনবে। তেমনি ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন ঠেকাতে হলে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে যথার্থ ভাবে তুলে ধরতে হবে। তাই ভারতায়ন ঠেকাতে হলে আমাদের যেটা করতে হবে সেটা হল ভারতের চাইতে উন্নতমানের অনুষ্ঠান তৈরি করতে হবে। এটা কি খুব কঠিন কিছু? আমার তো মনে হয় না।
শেষ করতে চাই রবীন্দ্রনাথ কে দিয়ে। গান্ধী যখন অসহযোগ আন্দোলন করছিল তখন সে চাইতো রবিবাবু তার আন্দোলনে শরিক হোক। কিন্তু কোনভাবেই কবিগুরুকে রাজি করাতে পারেন নি। রবিবাবুর একটাই কথা ছিল, যে আন্দোলনের কারনে দেশের গরিব মানুষ কে বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে সেই আন্দোলনে সে নেই। কারন রবিবাবু খুব ভালো করেই জানতেন নিজেদের সীমাবদ্ধতা। তাই বলছি সংস্কৃতির ভারতায়ন ঠেকাতে ভারতীয় টিভি চ্যানেল বর্জন কোণ সমাধান না। প্রয়োজন নিজেদের টিভি চ্যানেলের পরিমার্জন। আমরা চাইলে পাড়ি না এমন কিছু আছে নাকি? খালি চাইতে একটু সময় বেশি নেই। যে জাতি নিজের ভাষায় কথা বলার জন্য জীবন দিতে পারে সেই জাতি নিজের সংস্কৃতিকেও টিকিয়ে রাখবে সন্দেহ নেই। কিন্তু অতিরিক্ত অসুস্থ হয়ে পড়ার আগেই চিকিৎসা করানো বুদ্ধিমানের কাজ। হাসপাতালের আইসিইউ এর খরচ একটু বেশিই। অতিরিক্ত অসুস্থ হয়ে পরলে রোগমুক্তির মূল্য একটু বেশিই দিতে হবে। তাই আসুন আমরা সবাই খোদার কাছে দোয়া করি "আমার পরিবার যেন থাকে ভারতীয় চ্যানেলের মোহমুক্ত"।
No comments:
Post a Comment