Thursday, June 12, 2014

ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক জিনিসটা কতো মজার!

ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক তেজপাতা রান্নার কাজে বেশ ব্যাবহারিত হয়ে থাকে। এই রান্না যে সে রান্না না। জীবনের রান্না। তেজপাতা রান্নায় ব্যাবহার করলে যেমন রান্নায় আলাদা একটা সুবাস আসে, তেমনি এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক বস্তুটি আপনার জীবনেও বেশ সুবাস ছড়াবে। জীবনের চলার পথে এই বস্তুটি আপনার প্রায়ই দরকার হবে। চাকরি করবেন? এলাকার কাউন্সিলর এর কাছ থেকে আপনাকে নিতে হবে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। চাকরি পালটাবেন? আগের বস এর কাছ থেকে লাগবে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। বিয়া করবেন? এলাকার গণ্যমান্যদের কাছ থেকে লাগবে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। সুতরাং বুঝতেই পারছেন কি চীজ এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। এই চীজ কিন্তু দুগ্ধজাত চীজ মনে কইরা খাইয়া ফেলতে পারবেন না। তাই বৃথা চেষ্টা কইরেন না।


আচ্ছা কখনো কি ভেবে দেখেছেন যারা আপনাকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিচ্ছে তাদের ক্যারেক্টার কেমন। বা তারা কার বা কাদের কাছ থেকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নিয়ে আপনার ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদেরই বা ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট আছে কিনা। পুরা ব্যাপারটাই একটা ভজগট ব্যাপার। তারপর ও মহার্ঘ জিনিসটা আমাদের জীবনে অনেক জরুরি। কিন্তু কি লাভ আসলে এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নামক বস্তুটি দিয়ে। আর ও মজার ব্যাপার হল যে আপনাকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিচ্ছে সে হয়ত আপনাকে চেনেও না। কিন্তু দিয়ে দিচ্ছে আপনাকে সার্টিফিকেট। বিনিময়ে হয়ত একশ বা দেরশ টাকা তাদের পকেটে ঢুকছে। তাহলে কি দরকার এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর। এখন অবশ্য ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর জন্য কাউন্সিলর বা পৌরসভার চেয়ারম্যান এর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন ও হয় না, নীলক্ষেত বা এলাকার কম্পিউটার কম্পোজ এর দোকানে গেলেই পাওয়া যায়।

এ তো গেলো সাধারন মানুষদের ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর কথা। সমাজের অসাধারন মানুষদের ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট এর জন্য অনেক মাধ্যম আছে। তাদের জন্য তো গণমাধ্যম আছেই। কারি কারি টাকা ঢালুন, আপনি অসুর হলেও আপনাকে দেবতা বানিয়ে দিবে বিনা দ্বিধায়। টাকা ঢালা বন্ধ করুন দেখবেন আপনি আবার আসল রুপে ফিরে আসবেন।ব্যাবসা টা ইদানিং বেশ ভালোই চালু।

তাই কি দরকার এই প্রহসনের। আমি বুঝি না এই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিয়ে কি লাভ আসলে হয়? এই প্রথাটি অযথায় অনেক মানুষ কে হয়রানি করে। তেজপাতা খাবারের সুবাস বাড়ায় ঠিকই কিন্তু এইটা জরুরি না।

No comments:

Post a Comment