গত শুক্রবার (০৫.০১.২০১৮) হুঠ করেই বাইক নিয়ে বন্ধুরা মিলে চলে গিয়েছিলাম ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নগরী বাগেরহাট। ঐতিহাসিক ভাবে বাগেরহাট দারুন সমৃদ্ধ এক নগরী ছিল। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে- খ্রীষ্টের জন্মের প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মধ্য এশিয়া হতে এ অঞ্চলে আর্য তথা আদি নর্কিভ বা ইন্ডিভদের আগমণ ঘটে। এছারা পরবর্তীতে মুসলিম আমলেও এই নগরী ছিল বিখ্যাত। খান-উল-আযম উলুঘ খান-ই-জাহান যাকে আমরা হযরত খান জাহান (রহ:) হিসেবে চিনি, তার স্মৃতিবিজড়িত শহর এই বাগেরহাট। তাই বাগেরহাট জেলার আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্য। বাগেরহাট শহর কে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর ও বলা হয়।
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হল ষাট গম্বুজ মসজিদ। বেশ কয়েকবার যাওয়ার কারনে আমরা এবার আর ষাট গম্বুজ মসজিদে যাইনি।
প্রথমে যাই জিন্দা পীরের মাজার। এটা একদম খানজাহান আলীর মাজারের পাশেই। স্থানীয়রা মনে করেন একজন বুজুর্গ ব্যাক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন যিনি কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করা অবস্থায় একদিন অদৃশ্য হয়ে যান। একারণে মনে করা হয়ে থাকে যে ঐ ব্যাক্তি এখনও জীবিত আছেন আর তাই তাঁকে জিন্দা পীর বলা হয় এবং মসজিদটিকে বলা হয় জিন্দা পীরের মসজিদ।
জিন্দা পীরের মসজিদ
জিন্দা পীরের মসজিদ
এরপরে চলে যাই পাশেই খানজাহান আলীর দরগা শরীফে। সেখানে মাইকিং করে যেভাবে মানতের টাকা কালেকশন করা হচ্ছে মনে হচ্ছিল জিবাংলায় অ্যাড হচ্ছে, আদী মোহিনীমোহন কাঞ্জিলাল, আমাদের আর কোন শাখা নেই।
হযরত খান জাহান (রহঃ) এর মাজার শরীফ
হযরত খান জাহান (রহঃ) এর দরগা শরীফের দীঘি
যাই হোক, এবার কোথায় যাবো? যেহেতু কোন প্লান নেই, তাই মাথা চুলকাতে চুলকাতে মনে পড়লো কোদলা মঠের কথা। আমি আগে গেলেও বাকিরা কেও যায় নি। তাই ভু ভু (যেহেতু বাইক নিয়ে গিয়েছিলাম) করতে করতে চলে গেলাম সবাইকে কোদলা মঠ বা অযোধ্যা মঠ দেখাতে। আমার দারুন প্রিয় একটা যায়গা। এটা পড়েছে যাত্রাপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের অযোধ্যা গ্রামে। যাত্রাপুর বাজার থেকে ৩ কি.মি মতো ভেতরে। ১৮.২৯ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট এই মঠটির দেয়ালের প্রশস্ততা ২.৭৫ মিটার। মঠটির উত্তর দিক ব্যাতিত পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিন দিকে একটি করে প্রবেশ পথ রয়েছে, তবে মূল প্রবেশ পথটি দক্ষিন দিকে। এ মঠটি প্রকৃত পক্ষে একটি স্মৃতি সৌধ। মঠে প্রাপ্ত একটি ভগ্নপ্রায় বাংলালিপি থেকে জানা যায়, জনৈক ব্রাহ্মণ তারক ব্রহ্মের অনুগ্রহ লাভের জন্য এই মঠটি নির্মাণ করেন। সম্ভবত এটি সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে নির্মিত। আবার জনশ্রুতি আছে যে, যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য তার সভাসদ গৃহের পণ্ডিত অবিলম্বা সরস্বতীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই মঠটি নির্মাণ করেন।
কোদলা মঠ/ অযোধ্যা মঠ
কোদলা মঠের প্রবেশ পথ।
সেই ট্যুরের কিছু মুহূর্তকে মুঠোফোন বন্দী করেছিলাম। যদি ইচ্ছে করে তবে দেখতে পারেন।
nice tour & description !
ReplyDelete